নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যার দায়েই শেষ পর্যন্ত ফাঁসি বহাল রইলো বদর নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের।
আজ মঙ্গলবার সকালে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এই বদর নেতার ওই অভিযোগে ফাঁসি বহাল রেখে চূড়ান্ত রায় দেন।
২০১৩ সালের ১৭ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেন। তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাতটির মধ্যে পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত হয় ট্রাইব্যুনালে।
অভিযোগগুলোর মধ্যে এক, ছয় ও সাত নম্বর অভিযোগে মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এর মধ্যে ৬ষ্ঠ অভিযোগ ছিল বুদ্ধিজীবীসহ গণহত্যার ষড়যন্ত্র ও ইন্ধন যোগানো।
কিন্তু আপিল বিভাগ এক নম্বর অভিযোগে মুজাহিদকে খালাস দিয়েছেন। আর সাত নম্বর অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় কমিয়ে যাবজ্জীবন দেয়া হয়েছে। ছয় নম্বর অভিযোগে (বুদ্ধিজীবী হত্যা) ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল রেখে মৃত্যুদণ্ড দেন আপিল বিভাগ।
এছাড়া দ্বিতীয় ও চতুর্থ অভিযোগ থেকে মুজাহিদকে খালাস দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এই দুটি অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে না পারায় ট্রাইব্যুনালও মুজাহিদকে খালাস দিয়েছিল।
আপিল বিভাগ তিন নম্বর ও পাঁচ নম্বর অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের দেয়া রায় বহাল রেখেছেন। তিন নম্বর অভিযোগে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ নম্বর অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সমাজকল্যাণমন্ত্রী মুজাহিদকে ২০১০ সালের ২৯ জুন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। ওই বছরের ২ আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ২০১১ সালের ১১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে।
আজ আপিলের রায় ঘোষণার পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘সাংবাদিক সিরাজউদ্দীনসহ বুদ্ধিজীবীদের হত্যার ব্যাপারে আল বদর বাহিনীর নেতা হিসেবে মুজাহিদ উস্কানিমূলক বক্তব্য-বিবৃতি দিয়েছেন। বদর বাহিনীর ক্যাম্পে গোলাম আজম এবং মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ নিয়মিত যাতায়াত করতেন।’

