অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরে তার কাছে বিজিএমইএ’র জন্য ৫০ একর জমি চেয়েছিলেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা। মোদির সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ জানিয়েছিলেন, এ বিষয়ে নরেন্দ্র মোদি ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজ রোববার তৈরি পোশাকের বড় গুদাম (ওয়্যারহাউজ) ও বিতরণ কেন্দ্র (ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টার) স্থাপনে ভারতের কাছে জমি চেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
গুজরাটে ৫০ একর জমি দিয়ে মোদি বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের মন রাখছেন- এমন গুঞ্জনের মধ্যেই রোববার বিকেলে বিজিএমইএ’র সভাপতি আতিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ শরনের কাছে গিয়ে একটি চিঠিতে এ প্রস্তাবনা দিয়ে এসেছেন।
চিঠিতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের বৈঠকের বিষয়ে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, দুদেশের বাণিজ্য ঘাটতি দূর করতে ভারতে তৈরি পোশাক রপ্তানি বাড়াতে চায় বিজিএমইএ। এর মধ্য দিয়ে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির কাছে চাওয়া ৫০ একর জমির আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবনা দেয়া হলো।
ভারতে তৈরি পোশাকের ব্যবসা বাড়াতে বিজিএমইএ যা করতে চায় তা লিখিত আকারে দেয়া হয়েছে পঙ্কজ শরনকে। এর মধ্যে- বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও অন্যান্য নামে প্রাথমিকভাবে ওয়্যারহাউস ও ডিষ্ট্রিবিউশন সেন্টার স্থাপনের জন্য জমি বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সংগঠনটি ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে।
প্রস্তাবনায় রয়েছে, সংগঠনটি ভারতের বিভিন্ন শহরে ১ হাজার রিটেইল স্টোর করতে চায়; যার মাধ্যমে এদেশের তৈরি পোশাকের প্রদর্শনী ও বিক্রি করা হবে। এর মধ্য দিয়ে পরবর্তী বছরগুলোতে ভারতে পোশাক রপ্তানি ১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে চায় বিজিএমইএ।
যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়নের জন্য এ প্রস্তাবগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর জন্য পঙ্কজ শরনকে অনুরোধ জানিয়েছে বিজিএমইএ।
চিঠির একটি অনুলিপি বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও এফবিসিসিআইতে পাঠানো হয়েছে।
ভারতীয় হাইকমিশন থেকে বেরিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিজিএমইএর অনুকূলে ৫০ একর জমি দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলাম। পরবর্তী সময়ে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রস্তাব দেয়ার উদ্যোগ নিই, যা আজ সম্পূর্ণ করলাম। আশা করি দেশের ব্যবসায়ীদের এ সাহসী পদক্ষেপে আমরা সফল হবো।’
তিনি বলেন, ‘এই জমি পেলে বিজিএমইএর সদস্য ও অন্যান্যরা ২৫ মিলিয়ন ডলার নিয়ে ভারতে একটি কোম্পানি গঠন করবো এবং সেখানে ভারতের বৃহত্তম ওয়্যারহাউস ও ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টার স্থাপন করবো। এছাড়া বিজিএমইএ ভারতে ১০০০ রিটেইল শপও স্থাপন করবে। এসব করা হলে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যিক ঘাটতি অনেকাংশে কমবে বলে আশা করছি।’
উল্লেখ্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত সপ্তাহে দুই দিনের সফরে বাংলাদেশে আসেন। সফরের দ্বিতীয় দিন, ৭ জুন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সদস্যভুক্ত কয়েকটি ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে সোনারগাঁও হোটেলে বৈঠক করেন মোদি। এ সময় বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম মোদির কাছে তার দেশে ৫০ একর জমি বরাদ্দ চান।

