আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) অভিযুক্ত সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশির আফ্রিকা সফর শেষে সোমবার রাতে নিজ দেশে ফিরছেন। সুদানের সরকারি কর্মকর্তারা বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে আল জাজিরা।
যদিও তার দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সে দেশের এক আদালত। এ নিয়ে সোমবার সকাল থেকে আদালতে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হয়েছেন পক্ষে বিপক্ষের আইনজীবীরা। রোববার মানবাধিকার গোষ্ঠী ‘সাউথ আফ্রিকান লিটিগেশন সেন্টার’এর করা আবেদনের প্রেক্ষিতে এ বিধিনিষেধ আরোপ করেছে প্রিটোরিয়া হাই কোর্ট।
এদিকে সুদানের তথ্যমন্ত্রী আহমেদ বিলাল ওসমান আল জজিরাকে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট বশির এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে সুদান ফিরছেন। তিনি আরো বলেন, তার গ্রেপ্তারের নির্দেশ সম্পর্কে প্রিটোরিয়ার উচ্চ আদালত কি রায় দেয় তা নিয়ে তারা মাথা ঘামাচ্ছেন না। কেননা তাকে আটকের আদেশ দেয়ার এখতিয়ার আদালতের নেই।
এর আগে সুদানি প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ হাতেম সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, ‘প্রেসিডেন্ট বশির এখনো জোহানেসবার্গ অবস্থান করছেন। সোমবার রাতে আমরা দক্ষিণ আফ্রিকা ত্যাগ করব।’
দারফুরে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তার বিরুদ্ধে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আইসিসি। এ ঘটনায় ২০০৯ সালে তাকে প্রথম অভিযুক্ত করেছিল ওই সংস্থাটি।
সোমবার সকাল থেকেই প্রিটোরিয়ার ওই আদালতে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়েছে বলে আল জাজিরা জানিয়েছে। প্রেসিডেন্টকে আইসিসি’র হাতে তুলে দেয়া হবে কীনা এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে আদালত। যদিও আফ্রিকান ইউনিয়নের সম্মেলনে আগত সব আফ্রিকীয় নেতাদের আগেই আইনি সুরক্ষা দিয়ে রেখেছে দক্ষিণ আফিকার সরকার। তাই শুনানিতে বশিরকে গ্রেপ্তারের আদেশ দেয়া হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট বশিরের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পক্ষাবলম্বন করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। সোমবার জেনেভায় সাংবাদিকদের কাছে তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে সম্মানিত আইসিসি কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা অবশ্যই বাস্তবায়ন করা উচিত।

