ঢাকাSunday , 14 June 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিনিয়োগ সমস্যা: পরস্পরকে দুষলেন দুই দলের মন্ত্রী

Link Copied!

kamal-khashruঅর্থনৈতিক প্রতিবেদক : বিনিয়োগ না আসার জন্য পরস্পরকে দুষলেন দুই দলের বর্তমান ও সাবেক দুই মন্ত্রী। তবে প্রকৃত অর্থে জিডিপি প্রবৃদ্ধি শুধুমাত্র বিনিয়োগের উপর নির্ভর করে না, দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতির ওপরও নির্ভর করে বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
শনিবার রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিডিপি) আয়োজিত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর উপস্থিতিতে তাকে উদ্দেশ করে পরিকল্পনা মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
দেশে বিনিয়োগ পরিস্থিতি স্থবির হয়ে গেছে বলে আমীর খসরু মাহমুদের করা মন্তব্যের জবাবে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগের পরিমান ২৯ ভাগ যা সিঙ্গাপুরের সমান এবং মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড থেকে বেশি। প্রকৃত অর্থে জিডিপি প্রবৃদ্ধি শুধুমাত্র বিনিয়োগের উপর নির্ভর করে না, দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতির উপরও তা নির্ভর করে।’
সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ দাবি করেন, নিরাপত্তাহীনতা, আইনের শাসনের অভাবে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগে স্থবিরতা বিরাজ করছে। সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীরা হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। সরকার গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার ও জীবনের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ।
পরিকল্পনা মন্ত্রী এর জবাবে বলেন, ‘আপনার দল জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিনমাস রাজনীতির নামে যেভাবে সহিংসতা চালিয়েছে তাতে বিনিয়োগ কীভাবে আসবে? তারপরও জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫১ ভাগ হয়েছে সাধারণ মানুষের অদম্য আকাঙ্ক্ষায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে এ প্রবৃদ্ধি ৭ ভাগ হতো।’
২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাজেটে রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রা গত বছরের তুলনায় ৩০ ভাগ বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে এরপরও এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব বলেও জানান তিনি।
মুস্তফা কামাল বলেন, ‘এ বছরের নয় মাসে রাজস্ব আহরণের প্রবৃদ্ধি ১৭ ভাগ। এর আগের পাঁচ বছরের গড় প্রবৃদ্ধি ১৮ ভাগ। এ বছর ৩০ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে গেলে বর্তমানের রাজস্ব আহরণ থেকে ৪০ হাজার ৯৪২ কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ করতে হবে। ১৮ ভাগ গড় প্রবৃদ্ধি ধরলে ২৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ হবে।’
সরকার কর দাতার আওতা বৃদ্ধি করতে উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রাজস্ব আহরণের জন্য কর কাঠামোতে ইতোমধ্যে সংস্কার শুরু করেছি। আমরা কর দাতার আওতা বাড়াতে জেলা উপজেলা পর্যায়ে কাজ করছি। আগামীতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে কর গ্রহণ করা হবে। আশা করছি এ বছর প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ বাড়বে।’
দেশ বৈদেশিক ঋণজালে আটকে যাচ্ছে বলে আমীর খসরু মাহমুদের করা অপর এক মন্তব্যের জবাবে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বাজেট ব্যয় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ৫ ভাগ ডেফিসিট ফাইন্যান্সিং সীমা কখনোই অতিক্রম করেনি। কাজেই আশঙ্কার কোনো কারণ নেই। আমাদের ডেট টু জিডিপি ৩২ ভাগের মধ্যে আছে যা পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম কম। পৃথিবীর প্রায় সব দেশই ডেফিসিট ফাইন্যান্সিং করে থাকে।’
এ বিষয়ে আমীর খসরুর দৃষ্টি আর্কষণ করে তিনি আরো বলেন, ‘আপনাকে মনে রাখতে হবে, অর্থনীতির চাহিদা পূরণ করতে সরকারকে ডেফিসিট ফাইন্যান্সিং করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ করতে হয়। সত্যিকারভাবে একটি পরিপক্ক অর্থনীতি যেভাবে আচরণ করে বাংলাদেশের অর্থনীতিও তাই করছে।’
তবে এডিপিতে অর্থের অপচয় হচ্ছে স্বীকার করে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এখানে প্রকল্পে শেষ প্রান্তিকে এসে প্রথম তিন প্রান্তিকের সমান ব্যয় হয়। সব সময়ই এ ধারা চলে আসছে। ফলে অপচয় বেড়ে যায়। এর বহুমুখি আমলাতান্ত্রিক কারণ আছে। আমরা এখানেও সংস্কার আনছি। আশা করছি, আগামী বছর এর সফলতা পাব।’
এবারে বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি থাকবে উল্লেখ করে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এবারের প্রস্তাবিত বাজেটের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হলো রাজস্ব আদায়। কারণ চলতি অর্থবছরেই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি থাকবে। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলে বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যহত হবে। এছাড়া, আগামী অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) সাত ভাগ অর্জন করতে অতিরিক্ত ৫৭ হাজার কোটি টাকার বেসরকারি বিনিয়োগ দরকার।’
প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন- তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান ও পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য আরাস্তু খান প্রমুখ।