নিজস্ব প্রতিবেদক : মোদি আসবেন, মোদি আসবেন এমন গুঞ্জন ছিল তার ক্ষমতা নেয়ার পর থেকেই। অবশেষে ভারতের রাজ্যসভা ও লোকসভায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বিল পাস হয়ে যাওয়ার পর চুক্তি বাস্তবায়নের পথ প্রসারিত হওয়ার পরই তৈরি হয় তার ঢাকা সফরের সূচি। আগামী ৬ জুন ঢাকা আসছেন তিনি।
৬ জুন ঢাকা পৌঁছানোর পর ৭ জুন সকালে তার জাতীয় ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে তিনি পূজা দেবেন। এ উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতিও নেয়া হয়েছে। নরেন্দ্র মোদির আগমনকে সামনে রেখে প্রতিদিন ভারতীয় হাইকমিশন থেকে একটি সিকিউরিটি টিম মন্দির প্রাঙ্গণ ঘুরে যাচ্ছে।
এছাড়া মন্দির কমিটি থেকে মন্দির বাগান, শিব মন্দিরের সামনের অংশ, বিভিন্ন ফুলের টব ঘষা-মাজা থেকে শুরু করে মন্দিরের সব আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে। আজ (মঙ্গলবার) মন্দিরের মাঠ ধোয়া হবে।
২ থেকে ৫ জুন পর্যন্ত মন্দিরে আসা ভক্ত-দর্শনার্থীদের কঠোর নজরদারিতে রাখবে মন্দিরের সিকিউরিটি টিম। ৬ জুন দুপুর ২টার পর মন্দিরের সিকিউরিটি টিম উঠিয়ে নেয়া হবে। তখন পুরো মন্দির প্রাঙ্গণ ভারতীয় হাইকমিশন ও সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ন্ত্রনে চলে যাবে। এ সময় মন্দিরে কোনো ভক্ত বা দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারবেন না।
জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণ সরজমিনে ও মন্দির পরিচালনা কমিটির হিন্দু নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি জে এল ভৌমিক ও সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ সাহা মনি নরেন্দ্র মোদিকে মন্দিরে স্বাগত জানাবেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে তারাই মন্দিরের মাঠে নিয়ে যাবেন।
মাঠ থেকে মন্দিরের প্রধান সেবায়েত ও পরিচালক প্রদীপ চক্রবর্তী নরেন্দ্র মোদিকে মন্দিরের ভিতরের প্রধান বিগ্রহের সামনে নিয়ে যাবেন এবং পূজা দেবেন। পূজা শেষে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে একটি উপহার দেয়া হবে। তবে কী উপহার দেয়া হবে তা এখনও ঠিক হয়নি বলে জানা গেছে।
প্রদীপ চক্রবর্তী বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আগমনে আমরা সন্তুষ্ট। চাওয়া-পাওয়ার কিছুই নেই। উনি শুধু মন্দির দর্শন করবেন। কোনো ধরনের আলোচনা বা কথা-বার্তা হবে না। এ উপলক্ষে সব প্রস্ততি নেয়া হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার মাঠ ধোঁয়া-মোছার কাজ শুরু করা হবে।’
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি কাজল দেবনাথ বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পূজা দিতে আসার বিষয়টি আমাদের নিশ্চিত করেছে। সংক্ষিপ্ত সফরেও যে তিনি ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আসছেন এটা আমাদের জন্য আনন্দের সংবাদ। মন্দিরে নরেন্দ্র মোদির আগমনকে কেন্দ্র করে পূজা উদযাপন পরিষদ এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’
মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ সাহা মনি বলেন, ‘কোন ধরনের চাওয়া-পাওয়ার কিছুই নেই। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মন্দিরে আসবেন, পূজা দেবেন এটা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। তার এই সফরে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো এগিয়ে যাবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।’
সার্বজনীন পূজা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জী বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী আসবেন জেনে আমরা খুবই আনন্দিত।’
এরআগে বাংলাদেশ সফরে এসে ২০১৪ সালের ২৭ জুন ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পূজা দেন মোদি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ।
উল্লেখ্য, ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরটি রাজা বল্লাল সেন ১২০০ খ্রিষ্টাব্দের কোনো এক সময় নির্মাণ করেছিলেন। তৎপরবর্তী সময় থেকে আজ অবধি এই মন্দিরটি কালক্রমে ঢাকার জাতীয় মন্দির হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
লালবাগের ১০, অরফানেজ রোডে স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানার পূর্ব পাশে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের দক্ষিণ পশ্চিমে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের অবস্থান।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ঢাকা সিটি করপোরেশন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি ঢাকেশ্বরী মন্দিরটি তত্ত্ববধায়ন ও নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।

