আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ইয়াংজি নদীতে সোমবার সাড়ে চারশ’য়ের বেশি যাত্রী নিয়ে একটি পর্যটন জাহাজ ডুবে গেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এর ৩০ জনের বেশি যাত্রীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এদের মধ্যে জাহাজের ক্যাপ্টেনও রয়েছেন। খবর বিবিসি, রয়টার্স এবং আল জাজিরার।
স্থানীয় ‘পিপলস ডেইলি’ পত্রিকাটি জানিয়েছে ডুবে যাওয়া জাহাজের যাত্রীরা এখনো জীবিত আছেন। সোমবার রাতে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে জাহাজটি ডুবে যায়।
চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছেন বলে মঙ্গলবার সিনহুয়া জানিয়েছে। যাত্রীদের দ্রুত উদ্ধরের নির্দেশ দিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং । ডুবে যাওয়া যাত্রীদের উদ্ধারে কোনোরকম গাফিলতি সহ্য করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন। তবে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার তৎপরতা চালানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
ইয়াংজি রিভার নেভিগেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, সোমবার হুবাই প্রদেশের জিয়ানলি এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে তাদের ‘ইস্টার্ন স্টার’ জাহাজটি ডুবে যায়।
এদিকে ‘পিপলস ডেইলি’ পত্রিকার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, জাহাজটিতে সবমিলিয়ে ৪৫৮ জন আরোহী ছিল। এদের মধ্যে ৪০৬ জন যাত্রী এবং বাকিরা ক্রু। যাত্রীদের অধিকাংশই ছিল বয়স্ক। এদের বয়স ৫০-৮০য়ের মধ্যে। এদের বেশিরভাগই ছিল পর্যটক।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় উদ্ধারকারী দল। এখনো সেখানে ৩শ সেনা এবং ১০টির বেশি জাহাজ উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে। তাদের সহায়তা করছে ১শটি জেলে নৌকা। উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেয়ার জন্য আরো ২০ ডুবুরি ঘটনাস্থলে রওয়ানা হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে ঝড়ো হাওয়া এবং ভারি বর্ষণের কারণে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
‘পিপলস ডেইলি’ পত্রিকার বরাত দিয়ে রয়টার্স আরো জানিয়েছে, পর্যটকদের বহনকারী জাহাজটি সোমবার চীনের জিয়াংসু প্রদেশের রাজধানী নানজিং থেকে দক্ষিণ পশ্চিমের চংকিং শহরের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছিল। এটি নদীর জিয়ানলি এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় সোমবার স্থানীয় সময় রাত ৯টা ২৮ মিনিটে ডুবে যায় এবং নদীর ৫০ ফুট নিচে তলিয়ে যায়। এটির ৫ শতাধিক যাত্রী পরিবহনের ক্ষমতা রয়েছে বলেও পত্রিকাটি জানিয়েছে।
ডুবে যাওয়া ইস্টার্ন স্টারের মালিক হচ্ছে কংকিং ইস্টার শিপিং কর্পোরেশন। এটি নিয়ে ইয়াংজি নদীতে তাদের তিনটি জাহাজ চলাচল করে থাকে। ১৯৬৭ সাল থেকে এই কোম্পানি জাহাজ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছে।

