আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসলামিক স্টেটের জঙ্গিদের শিশু নির্যাতনের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে বিবিসি। মোবাইল ফোনে ধারণকৃত ওই ভিডিওতে দেখা যায়, আইএস জঙ্গিরা চৌদ্দ বছরের এক সিরিয় বালকের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে।
সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে, জিহাদি গোষ্ঠী আইএসের একজন দলত্যাগী সদস্য এই ভিডিও করে। এতে দেখা যায় আহমেদ নামের কিশোরকে দড়িতে বেঁধে ঝুলিয়ে নির্যাতন চালানো হচ্ছে। পরে ওই কিশোর আইএসের হাত থেকে পালিয়ে যায়। এখন সে তুরস্কে অবস্থান করছে।
বিবিসি প্রতিনিধি আহমেদের সঙ্গে কথা বলে দুঃসহ ওই স্মৃতির কথা উদ্ধার করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, আহমেদকে মাটি থেকে প্রায় এক ফুট উপরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তার মুখ কালো কাপড়ে ঢাকা। আপাদমস্তক কালো কাপড়ে ঢাকা দুই ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছেন আহমেদের সামনে। তাদের একজনের হাতে একটি ছুরি ও একটি পিস্তল। অন্যজন একটি একে-৪৭ রাইফেল হাতে ওই ঘরের ভেতর পায়চারি করছেন।
পরে তারা আহমেদের হাত বেঁধে ছাদের সঙ্গে ঝুলিয়ে পেটাতে শুরু করে। আইএস যখন আহমেদকে ধরে এবং নির্যাতন করে তখন তার বয়স ছিল ১৪।
নির্যাতনের স্মৃতি সম্পর্কে আহমেদ বিবিসিকে জানায়, `পেটানোর সময় আমি বাবা-মার কথা মনে করতাম। মায়ের মুখ কল্পনা করতাম। কখনো ভাবতাম ওরা আমাকে মেরেই ফেলবে। আর কখনই বাবা-মা, ভাইবোন, বন্ধু, আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা হবে না আমার।’
আইএস জঙ্গিরা আহমেদকে দিয়ে একটি বোমা হামলা চালাতে চেয়েছিল, কিন্তু হামলাটি ব্যর্থ হওয়ায় আহমেদের উপর নেমে এসেছিল নির্যাতনের খড়গ।
উদ্ধারপ্রাপ্ত আহমেদ তুরস্কের একটি নিরাপদ জায়গা থেকে বিবিসির সংবাদদাতাকে বলছিল, তারা তাকে চাবুক-পেটা করতো এবং বৈদ্যুতিক শক দিতো। এক পর্যায়ে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে জিহাদিরা। কিন্তু যার ওপর ওকে মারার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল তিনি করুণাবশত আহমেদকে খুন না করে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

