ঢাকাMonday , 1 June 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কালো টাকা বিনিয়োগে নীতিমালা দরকার

Link Copied!

debapriya-bhattacharyaঅর্থনৈতিক প্রতিবেদক : অপ্রদর্শিত অর্থ (কালো টাকা) নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা না থাকায় তা পাচার হয়ে যায়। অনেকে আবার বেনামী সম্পত্তি গড়েন। ফলে দেশে উপার্জিত হলেও এ টাকা অর্থনীতির মূল ধারায় আসে না। দেশের টাকা দেশে রাখতে ও বিনিয়োগ বাড়াতে অপ্রদর্শিত অর্থের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা করা প্রয়োজন।
রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০১৪-১৫ তৃতীয় অন্তর্বর্তীকালীন পর্যালোচনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ সিপিডি ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘অর্থনীতির মূল ধারায় নিয়ে আসতে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার জন্য ও বেনামী সম্পত্তির জন্য পৃথক আইন প্রণয়ন করা দরকার। বাংলাদেশে অনেক মানুষই তাদের বৈধ আয়কে বিভিন্ন কারণে প্রদর্শন করেন না। অনেকে আবার দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক হন। প্রতিবছরের বাজেটে উভয়ের জন্য একটি সাধারণ নীতিমালা করে এ টাকা বৈধ করার সুযোগ দেয়া হয়। ফলে অসৎ পথে টাকা উপার্জনকারীদের সংখ্যা বাড়ে। আর যারা নিয়মিত কর দেন তারা নিরুৎসাহিত হন। তবে সুনির্দিস্ট নীতিমালা থাকলে অপ্রদর্শিত অর্থ নিয়ে সমস্যা হতো না।’
অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা আনতে পাঁচটি পৃথক স্বাধীন কমিশন গঠন করারও প্রস্তাব দিয়েছে সিপিডি।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. তৌফিকুল ইসলাম। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমসহ অন্যান্য গবেষকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
মূল প্রবন্ধে বলা হয়, পরিসংখ্যান ব্যুরোসহ সরকারের আর্থিক অবস্থা যাচাইয়ের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের হিসাবে অনেক সময়ই গরমিল দেখা যায়। ফলে অর্থনীতির সূচক ঠিক থাকে না।
এ সমস্যা সমাধানে একটি স্বাধীন পরিসংখ্যান কমিশন, মূল্য নিয়ন্ত্রণ কমিশন, স্থানীয় সরকার অর্থনৈতিক কমিশন, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ কমিশন ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের জন্য স্বাধীন কমিশন গঠন করা দরকার। এছাড়া অর্থনীতির চাকা গতিশীলে সরকারি কর্মচারী আইন, প্রাইভেট-পাবলিক পার্টনারশিপ আইন, প্রাইভেটাইজেশন, ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট ও ভ্যাট আইন দ্রুত বাস্তবায়ন করা দরকার।
মূল প্রবন্ধে তৌফিকুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা থাকলেও এ বছর অর্থনীতির বেশ কিছু সূচক ইতিবাচক ছিল। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ছিল, রেমিট্যান্স প্রবাহ যথার্থ ছিল, বেড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও মাথাপিছু আয়। তবে এসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাজস্ব আহরণে কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন করতে পারেনি সরকার।
তাছাড়া বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন, ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ, ব্যাংকের সুদের হার কমানোসহ অনেক খাতে সরকার বেশ পিছিয়ে বলে জানান তিনি।
প্রবন্ধে বলা হয়, মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে তিনটি শর্ত রয়েছে। এগুলো হলো- মাথাপিছু আয় হতে হবে ১১৯০ ডলার, মানব সম্পদ উন্নয়নের সূচক হতে হবে ৬৬ এবং অর্থনীতির ভঙ্গুর অবস্থা দূর করতে হবে। এর মধ্যে বাংলাদেশ শুধু প্রথম শর্তটি পূরণ করতে পেরেছে। ২০২১ সালের মধ্যে বাকি শর্ত দুটি পূরণ করা সম্ভব নয়। মানব সম্পদ উন্নয়নের সূচক ২০২১ সালে ৬৬-এর কাছাকাছি গেলেও অর্থনৈতিক ভঙ্গুর অবস্থা কাটিয়ে ওঠা আগামী এক দশকের আগে সম্ভব হবে না। তাই ২০২১ সালের মধ্যেই মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার সম্ভবনা নেই।
এতে বলা হয়, যেকোনো দেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে ঘোষণা দেয়ার ৬ বছর আগে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কমিটি সেই দেশকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। বাংলাদেশ এ তালিকায় ২০১৮ সালে যুক্ত হতে পারে। এক্ষেত্রেও ২০২৪ সালের আগে বাংলাদেশের মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া অসম্ভব।
ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ অনেক পিছিয়ে আছে উল্লেখ করে মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বর্তমানে দেশে ব্যক্তি খাতে মাত্র ১৩ শতাংশ বিনিয়োগ রয়েছে। মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া ও জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের উপরে নিতে এ বিনিয়োগ দ্বিগুণ করতে হবে।
দুর্নীতি, অবকাঠামো উন্নয়নে ঘাটতি, সরকারের নীতির দুর্বলতা, স্থায়ী সরকার ব্যবস্থা ও অর্থায়নের অভাবে বিনিয়োগ বাড়ছে না বলে মনে করে সংগঠনটি।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির বেশ কয়েকটি দিক ইতিবাচক থাকলেও কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়নি। রাজস্ব আহরণে বাস্তবতার সঙ্গে লক্ষ্যমাত্রার মিল না থাকা ও এডিপি বাস্তবায়নে সঠিক পদক্ষেপ না নেয়া এজন্য দায়ী।’