অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : আগামী অর্থবছরের (২০১৫-১৬) বাজেটে কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর অগ্রিম শুল্ক বসানোর ঘোষণা আসতে পারে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সূর্যমুখির তেল, গম-যবের মতো শস্যদানা জাতীয় পণ্য, বেশকিছু পেট্রোলিয়াম এবং কম্পিউটার ও প্রযুক্তি পণ্য। এ পণ্যগুলোর ওপর ৫ শতাংশ অগ্রিম শুল্ক বাসনো হতে পারে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। তবে খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব নিত্যপণ্যের ওপর করারোপ জীবন যাত্রায় ব্যয়কে আরোও বাড়িয়ে দেবে। বেড়ে যাবে মূল্যস্ফীতি।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাস্টমস আইন ও আয়কর বিধির ১৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে বর্তমানে ৩০০টি পণ্য অগ্রিম শুল্ক রেয়াত সুবিধা ভোগ করে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একশ্রেণীর অসাধু আমদানিকারক এসব পণ্যের নামে অনেক বিলাস পণ্য আমদানি করে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। তাই এ সুবিধা সীমিত করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। আসন্ন বাজেটে এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে।
ভোক্তা অধিকার রক্ষার জন্য কাজ করা কনজ্যুমার এসোসিয়েশেন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম এ প্রসঙ্গে বলেন, নিত্য পণ্যের ওপর অতিরিক্ত কর বসালে তা দ্রব্য মূল্য বাড়িয়ে দেবে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, দিনে দিনে দ্রব্যমূল্য বাড়ছে। এ মাঝে অগ্রিম কর ধার্য হলে তা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যে দাম আরো বাড়িয়ে দেবে।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, রাজস্ব সংগ্রহের উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা পূরেণের জন্য করের আওতা বাড়নো হচ্ছে। এ জন্যই এসব পণ্যের ওপর অগ্রিম কর বাসানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটের আকার হতে পারে ৩ লাখ ১০০ কোটি টাকা। যেখানে চলতি অর্থবছরের বাজেট ২ লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা। এ বিশাল বাজটের জন্য এনবিআর রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। চলতি অর্থ বছরে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যা এখনো পূরণ করা সম্ভব হয়নি।
আগামী অর্থবছরের জন্য এনবিআর আয়কর থেকেই সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় করতে চাইছে। এ খাত থেকে তারা ৬৫ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা আয় করতে চায় । মূল্য সংযোজন কর (মূসক) হিসেবে ৬৩ হাজার ৯০২ কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। । আর শুল্ক খাত থেকে ৪৬ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

