আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরে নারী ও শিশু পাচার রোধে ‘মেমরোন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’(মউ) স্বাক্ষরিত হবে। একই সঙ্গে জালনোট এবং সন্ত্রাস দমনে ঢাকার সঙ্গে ‘কাউন্টার টেরর এগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। ভারতের পক্ষে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি(এনআইএ) এবং বাংলাদেশের স্থানীয় গোয়েন্দা বিভাগ এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে বলে জানিয়েছে কলকাতার ‘বর্তমান’ পত্রিকা।
এই চুক্তির ফলে জাল নোট কারবারের যাবতীয় নথিপত্র বিনিময় করবে দু দেশের গোয়েন্দারা। একইসঙ্গে সন্ত্রাসদমনেও তথ্য বিনিময়ের মধ্য দিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টিও প্রাধান্য পাবে এই চুক্তিতে। একই সঙ্গে দু দেশের উপকূলবর্তী এলাকায় অপরাধ দমনেরও চূড়ান্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
এনআইএ’র বরাত দিয়ে পত্রিকাটি আরো জানিয়েছে, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’র মদদে ভরতীয় জাল নোট আকাশ পথে করাচি ও দুবাই হয়ে সরাসরি ঢাকায় পাঠানো হয়। পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স(পিয়া) ও কাতার এয়ারলাইন্সের বিমানে ‘ডিপ্লোমেটিক ট্যাগ’ লাগানো ব্যাগে ওই নোটগুলো ঢাকায় আসে। এরপর আইএস তাদের স্থানীয় এজেন্ট এবং ‘জামাত-উল-মুজাহিদিন’ গোষ্ঠীর জঙ্গিদের সাহায্যে তা মালদহ-মুর্শিদাবাদ সীমান্ত দিয়ে ছড়িয়ে দেয়া হয় ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে।
পত্রিকার ওই প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতে যত জালনোট ছড়িয়ে পড়ছে তার ৪০-৪৫ শতাংশই মালদহ দিয়ে আসে। এজন্য বাংলাদেশের চাঁপাই নবাবগঞ্জের কাইজার হাট ও রাজশাহীর মনসুরপুরে জালনোটের ‘স্ট্যাকইয়ার্ড’ খোলা হয়েছে।
এনআইএ সূত্রে আরো জানা গেছে, বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণের পর ঘটনার তদন্তে নেমে বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের সঙ্গে তথ্য বিনিময় করা হয়েছে। গত নভেম্বর এবং সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে গিয়ে সন্ত্রাসদমন, নারী ও শিশু পাচার এবং জালনোটের অবৈধ ব্যবসা ঠেকাতে বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছিল এনআইএ। সেই সময় ঠিক হয়, দু দেশের স্বার্থে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে গোটা বিষয়টিকে চুক্তির আকারে সম্পাদিত করা হবে। এনআইএ’র ওই সূত্রটি জানিয়েছে, দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সম্প্রতি জানতে পেরেছে, বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন জুম এদেশের সীমান্তবর্তী এলাকার যুবকদের জেহাদের কাজে নিযুক্ত করার জন্য ‘রিক্রুইমেন্ট ড্রাইভ’ শুরু করেছে। মূলত ইসলামিক স্টেট(আইএস) জঙ্গি সংগঠনে নিয়োগ করার জন্যই জুমের এই তৎপরতা।
ভারতীয় গোয়েন্দারা বলছেন, গতবছরের মাঝামাঝি সময়ে আইএস জঙ্গিদের একটি প্রতিনিধি দল গোপনে চট্টগ্রামে এসেছিল। সেখানে জুম এবং অপর জঙ্গিদের একটি প্রতিনিধিদল গোপনে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে এসেছিল। সেখানে তারা জুম এবং অপর জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লা বাংলা টিমের সঙ্গে বৈঠক করে। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, ভারত ও বাংলাদেশের জেহাদি মনোভাবের যুবকদের মগজধোলাই করে ভেড়াতে আইএস শিবিরে। প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরে এই বিষয়টিও আলোচনায় থাকবে বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে নারী ও শিশু পাচার রোধ, তাদের উদ্ধার, প্রত্যর্পণ এবং পুনর্বাসনে সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করা হবে। নারী ও শিশু পাচার রোধে দু’দেশের অধিকারকদের সমন্বয়ে একটি টাস্ক ফোর্স তৈরি করা হয়েছে। এ বিষয়ে দু দেশের কর্মকর্তাদের সম্মতিতে একটি খড়সাও তৈরি করা হয়েছে। এনআইএ সূত্রের খবর, সন্ত্রাস দমন ও জালনোটের কারবার ঠেকাতে যে চুক্তি সম্পাদিত হবে, সেই সংক্রান্ত খসড়াও চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

