আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের চরমপন্থি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) সিরিয়ায় মার্কিন নীতিরই প্রত্যক্ষ ফসল। সংগঠনটির আত্মপ্রকাশের বিষয়টি পেন্টাগন তিন বছর আগে থেকেই জানতো। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগনের ফাঁস হওয়া কয়েক বছর আগের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল। শুক্রবার এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে মিডল ইস্ট আই নামে একটি অনলাইন বার্তা সংস্থা। এর আগে প্রতিবেদনটি জুডিশিয়াল ওয়াচ নামে ওয়াশিংটনের একটি আইনি প্রতিষ্ঠানের হস্তগত হয়।
মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার (ডিআইএ) গোপন এই প্রতিবেদন অনুযায়ী আইএসকে সিরিয়ায় বাশার আল আসাদ সরকারকে অস্থিতিশীল করার পশ্চিমা প্রচেষ্টার সম্ভাব্য ফসল হিসেবে দেখা হচ্ছে। আসাদ সরকারকে একঘরে বা কোণঠাসা করা ও ইরাক সরকারকে দুর্বল করার জন্যই গড়ে তোলা হয়েছে আইএসকে।
পশ্চিমা সরকারগুলো সিরিয়ায় কথিত ‘ইসলামপন্থী বিদ্রোহী গ্রুপগুলোকে’ উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ ও তুরস্কের মাধ্যমে আর্থিক, সামরিক ও জরুরি নানা সাহায্য দিয়ে আসছে।
২০১২ সালে আগস্টে তৈরী পেন্টাগনের ওই প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, সিরিয়ায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী প্রধান শক্তিগুলো হল, মুসলিম ব্রাদারহুড ও আল-কায়দা ইন ইরাক বা একিউআই। প্রতিবেদনে ফ্রি সিরিয়ান আর্মির নমনীয় বা মধ্যপন্থী বিদ্রোহী ও কথিত ইসলামপন্থী জঙ্গিদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হয়নি এবং আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও বিরোধিতার মধ্যেও কোনো পার্থক্য দেখানো হয়নি। কথিত ইসলামী গ্রুপগুলোর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা সিরিয়ার বিদ্রোহী জোটকে প্রথম থেকেই সহায়তা দিচ্ছিল সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আলকায়দা ইন ইরাক।
পাশ্চাত্য আলকায়দাকে একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বলে প্রচার করে আসলেও সিরিয়ায় আলকায়দাকে আসাদের বিরুদ্ধে সব ধরনের সহায়তা দিয়ে এসেছে।
ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ আইএসের কাছ থেকে তেল কিনছে বলে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইরাকে নিযুক্ত ইউরোপীয় জোটের পররাষ্ট্র কমিটির কর্মকর্তা জানা হাইবসকোভা জানিয়েছিলেন। আইএস ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে সিরিয়ার হাসাকা ও দেইর ইজ্জর-এর তেলক্ষেত্রগুলো দখল করে। আর এর পরপরই তারা পশ্চিমা অর্থ সাহায্য পেয়েছে।
সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন, বর্তমান মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও রিপাবলিকান দলীয় সাবেক প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জন ম্যাককেইন আইএস সৃষ্টিতে মার্কিন সরকারের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন প্রকাশ্যেই।

