নিজস্ব প্রতিবেদক : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন্ন ঢাকা সফর উপলক্ষে তিনটি চুক্তি সই হবে। তিনটি চুক্তিরই খসড়া মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে।
সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।
চুক্তিগুলো হলো- বাংলাদেশে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের সরকারী প্রতিষ্ঠান বিএসটিআই এবং ভারতের পণ্য মাননিয়ন্ত্রক সংস্থা ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডের (বিআইএস) মধ্যে চুক্তি।
কলকাতা-ঢাকা-আগরতলা এবং ঢাকা-সিলেট-শিলং-গৌহাটি রুটে বাস চলাচল চুক্তি।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশরারফ হোসেন ভুইয়া বলেন, কলকাতা-ঢাকা-আগরতলা এবং ঢাকা-সিলেট-শিলং-গৌহাটি রুটে বাস চলাচল চুক্তি হলে দু’দেশের মধ্যে যোগাযোগ আরো বাড়বে। এছাড়া বিএসটিআই ও বিআইএসের মধ্যে চুক্তির ফলে দু’দেশের পণ্যের মান সংক্রান্ত সনদের স্বীকৃতি দেয়া হবে। আমদানি-রপ্তানি পণ্যের পরীক্ষার সময়সীমা নির্দিষ্ট সময়ের সম্পন্ন হবে। দু’দেশের পরীক্ষা পদ্ধতিও একই হবে।
তিনি বলেন, বিএসটিআই যে রিপোর্ট দেবে তা বিআইএস গ্রহণ করবে এবং বিআইএস যে রিপোর্ট দেবে বিএসটিআই তা গ্রহণ করেবে। এর ফলে দু’দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে।
এদিকে আজ সোমবার থেকেই কলকাতা-ঢাকা-আগরতলা রুটে পরীক্ষামূলক ভাবে বাস চলাচল শুরু হয়েছে। এদিন সকাল সাড়ে ৯টায় ভারতের একটি বাস বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পাটুরিয়া ফেরি পার হয়ে মানিকগঞ্জ দিয়ে সন্ধ্যায় ঢাকা পৌঁছার কথা রয়েছে।
এরপর ২ জুন ঢাকা থেকে আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে ত্রিপুরার আগরতলার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। পরীক্ষামূলক ভাবে বাস চলাচলের পর থেকেই নিয়মিতভাবে কলকাতা-ঢাকা-আগরতলা যাত্রীবাহী বাস চলাচল শুরু হবে বলে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে।
সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, বেনাপোল ও আখাউড়া সীমান্তে যাতায়াত ও ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শেষ করতে কত সময় লাগে সে বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করবেন উভয় দেশের প্রতিনিধি দল। এই প্রতিনিধি দলের সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তীতে কলকাতা-ঢাকা-আগরতলা যাত্রীবাহী বাস সার্ভিস উদ্বোধন করা হবে।
সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কলকাতা থেকে আগরতলা যেতে হলে আসামের গৌহাটি হয়ে সড়ক পথে যেতে হয়। এই পথের দূরত্ব প্রায় ১ হাজার ৬৫০ কিলোমিটার। এই দুরত্ব কমাতে কলকাতা-ঢাকা-আগরতলা বাস সার্ভিস চালু হচ্ছে। এতে মাত্র ৫১৩ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হবে। বাংলাদেশে এই বাস সার্ভিস পরিচালনার জন্য শ্যামলী পরিবহনের সঙ্গে বিআরটিসির চুক্তি হয়েছে।
৪৫ আসনের একটি ভলবো বাস এই রুটে চলাচল করবে। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো বাস এই পরীক্ষামূলক সার্ভিসে অংশ নিচ্ছে না। কারণ ঢাকা-আগরতলা এবং ঢাকা-কলকাতা সরাসরি বাস সার্ভিস চালু আছে। তাই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আর পরীক্ষামূলক বাস চলাচল প্রয়োজন নেই বলে বিআরটিসি সূত্র জানায়।
সূত্রটি আরো জানায়, পরীক্ষামূলক ওই বাসে ভারতের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল থাকবে। রাতে প্রতিনিধি দলটি ঢাকার সোনারগাঁ হোটেলে একটি বৈঠকে মিলিত হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী ২ জুন মঙ্গলবার সকালে ওই বাসটিতে আখউড়া সীমান্ত দিয়ে আগরতলার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।
এরপর ৩ জুন বুধবার সকালে বাসটি আবার আগরতলা থেকে ঢাকা হয়ে কলকাতায় ফিরে যাবে। তবে এ সময় ত্রিপুরা থেকে অন্য একটি বাস এই পরীক্ষামূলক সার্ভিসে যোগ হতে পারে। তাই আগরতলা থেকে দু’টি বাস ঢাকা হয়ে কলকাতা যাওয়ার কথা রয়েছে।
সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ঢাকা হয়ে আগরতলা-কলকাতা সরাসরি বাস চালুর জন্য ভারতের ত্রিপুরার আগ্রহ বেশি। ত্রিপুরা সরকার প্রথম থেকে দাবি জানিয়ে আসছিল আগরতলা-কলকাতা সরাসরি বাস পরিসেবা চালু করার। ত্রিপুরার কাছে অত্যাধুনিক ভলভো বাস নেই। কিন্তু আরামদায়ক এসি বাস রয়েছে। তাই দিয়েই বাসের পরীক্ষামূলক এই সার্ভিসে অংশ নিচ্ছে তারা। এছাড়া ত্রিপুরা সড়ক পরিবহন নিগম নতুন একটি বাস ক্রয় করেছে সরকার। এছাড়া পরীক্ষামূলক এই বাস সার্ভিসে ত্রিপুরা রাজ্যের পরিবহন সচিব সমরজিৎ ভৌমিকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা হয়ে কলকাতা যাওয়ার কথা রয়েছে।
এ ব্যাপারে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এমএএন ছিদ্দিক বলেন, কলকাতা-ঢাকা-আগরতলা সরাসরি বাস চলাচলের জন্য আজ সোমবার ১ জুন পরীক্ষামূলকভাবে কলকাতা থেকে একটি বাস ঢাকায় আসবে। ওই দিন রাতে ঢাকায় অবস্থান করে ২ জুন আগরতলার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।
ওই বাসে ভারতের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসবেন। তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের ৮ থেকে ১০ জনের একটি প্রতিনিধি দল যোগ দেবেন। উভয় দেশের এই প্রতিনিধি দল কলকাতা থেকে ঢাকা হয়ে আগরতলা যাবেন বলে তিনি জানান।

