ঢাকাSunday , 31 May 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পেশাদারিত্ব ধরে রাখুন, শান্তিরক্ষীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী আহ্বান

Link Copied!

hasinaনিজস্ব প্রতিবেদক : শান্তিরক্ষা কাজে পেশাদারিত্ব, সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা বজায় রেখে দেশের পতাকা সমুন্নত রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী এবং পুলিশ বাহিনীর শান্তিরক্ষীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রোববার (৩১ মে) দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান।
এ বছর অনুষ্ঠানে ৬ জন শহীদ শান্তিরক্ষীর স্বজন এবং ১০ জন আহত শান্তিরক্ষীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী রর্বাট ওয়াটকিনস। বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা যেন আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জাতিসংঘের আহ্বানে সাড়া দিতে পারে, সেজন্য সরকারের সার্বিক প্রয়াস অব্যাহত থাকবে। বিশ্ববাসীর পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণ বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় আপনাদের এই ভূমিকা চিরকাল স্মরণ রাখবে। আপনারা বাংলাদেশকে বিশ্বে একটি শাক্তিশালী শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবেন, বিশ্বে বাংলাদেশের পতাকাকে সমুন্নত রাখবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
ভাষণের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন, বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭৪ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে। ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার বাংলায় প্রদত্ত ঐতিহাসিক ভাষণে বিশ্বের সর্বত্র শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অব্যাহত সমর্থনের বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষার জন্য শান্তি অত্যন্ত জরুরি এবং তাহা সমগ্র বিশ্বেও নরনারীর গভীর আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন ঘটাইবে এং ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত শান্তিই দীর্ঘস্থায়ী হইতে পারে।’
শেখ হাসিনা বলেন, সেই থেকেই বাংলাদেশ বিশ্বের শান্তিপ্রিয় ও বন্ধুপ্রতিম সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছে এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের অধীনে পরিচালিত সব শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। আজ সমগ্র বিশ্বে শান্তিরক্ষায় সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান সর্বজন বিদিত। যা নিশ্চিতভাবে আমাদের সশস্ত্রবাহিনী এবং পুলিশবাহিনীর সদস্যদের সফল অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ মিশন এবং বহুজাতিক বাহিনীতে শান্তিরক্ষীদের এ অনন্য অবদান বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করেছে। জাতিসংঘ মিশনে আমাদের এই কার্যকর অংশ্রগ্রহণ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় আমাদের অবস্থানকে সুসংহত করেছে এবং একইসঙ্গে তা বিশ্বের অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে শক্তিশালী দেশসমূহের সঙ্গে আমাদের দেশের পারস্পরিক কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, সার্ক, ওআইসি এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের দৃপ্ত অংশগ্রহণ এদেশকে বিশ্বের দরবারে একটি মর্যাদা সম্পন্ন রাষ্ট্রে পরিণত করেছে।
বিশ্ব শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা গর্বভরে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সারাবিশ্বে সর্বাধিক শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশের মধ্যে অন্যতম হওয়ার মর্যাদা লাভ করেছে। আমরা নিরাপত্তা পরিষদের অধীনে বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে, যে কোনো দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সদা প্রস্তুত।
শেখ হাসিনা জানান, বর্তমানে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় ১২২টি দেশের ১ লাখ ৭ হাজার ৮০৫ জন শান্তিরক্ষী নিয়োজিত রয়েছেন। এদের মধ্যে বাংলাদেশেরই ৯ হাজার ৫৯২ জন শান্তিরক্ষী বিভিন্ন মিশনে সক্রিয়, যার মধ্যে রয়েছে ২০৫ জন নারী শান্তিরক্ষী। বাংলাদের শান্তিরক্ষীদের সংখ্যা বর্তমানে বিশ্বে নিয়োজিত সর্বমোট সংখ্যার ৯ শতাংশ, যা সত্যিই গর্ব করার মত।
সশস্ত্র বাহিনী এবং পুলিশ বাহিনী তাদের নারী শান্তিরক্ষীদের অংশগ্রহণ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করে চলেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ বর্তমানে নারী প্রতিনিধিত্বের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করছে। বাংলাদেশও এ বিষয়ে পিছিয়ে নেই। জাতিসংঘ সদরদপ্তরে উচ্চ পর্যায়ের নিযুক্তিতে আমাদের নারী শান্তিরক্ষীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিতে হবে।
মিশন এলাকার জানমালের ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও শান্তিরক্ষীদের উন্নত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের মান সর্বদা প্রশংসা বয়ে এনেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জাতিসংঘ এবং বিশ্বের শান্তিপ্রিয় দেশগুলো আপনাদের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের দক্ষতা ও সাফল্যের প্রশংসা করেছে।
প্রধানমন্ত্রী শান্তিরক্ষীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা দেশের জন্য অতি প্রয়োজনীয় বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন, যা আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আপনারা জাতিসংঘের অধীনে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি দেশের মধ্যেও বিভিন্ন দুর্যোগের সময়ে ও জাতি গঠনে অনস্বীকার্য ভূমিকা পালন করছেন। এ পর্যায়ে আমি অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আপনাদের অকুতোভয় অবদানকে স্মরণ করছি। আপনাদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা আমাদের মহান স্বাধীনতাকে ত্বরান্বিত করেছিল।
বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা ৪০টি দেশে ৫৪টি ইউএন মিশন সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে ১০টি মিশনে আমাদের শান্তিরক্ষীরা নিয়োজিত আছে। অতি সম্প্রতি জাতিসংঘ সদরদপ্তর এবং শান্তিরক্ষা মিশনসমূহে উচ্চ পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে আমাদের সেনা অফিসারদের নিযুক্তি প্রদানের জন্য প্রস্তাব পেয়েছি। এগুলো আমাদের সফল এবং বলিষ্ঠ কূটনীতিরই ফসল।
শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আপনারা আপনাদের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও নিষ্ঠা প্রদর্শন করে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে ওইসব দেশের জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন। আপনাদের জীবনের উপর ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও আপনারা উন্নত দক্ষতার পরিচয় দিয়ে দেশের জন্য সর্বদা প্রশংসা বয়ে এনেছেন।
বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বে প্রথম সারির শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে যে গৌরব ও মর্যাদা লাভ করেছে, তা শান্তিরক্ষীদের সাহস, বীরত্ব, অসামান্য পেশাদারিত্ব ও দক্ষতারই অর্জিত ফসল বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী কঙ্গো ও মালিতে দায়িত্বরত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেন। এ সময় তিনি শান্তিরক্ষীদের খোঁজ খবর নেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে দিক-নির্দেশনা দেন।
অনুষ্ঠানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের কার্যক্রমের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্য চিত্র দেখানো হয়।