আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধপূর্ণ জলসীমার যে অংশে কৃত্তিম দ্বীপ নির্মান করা হচ্ছে সেখানে গোলন্দাজ বাহিনী মোতায়েন করেছে চীন। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা এই দাবি করেন।
যদি এ খবর সত্যি হয় তাহলে এ অঞ্চলের দেশগুলির জন্য বিষয়টি হবে বেশ উদ্বেগজনক। কারণ বিরোধপূর্ণ এই এলাকা নিয়ে চীনের সঙ্গে জাপান, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে দ্বন্দ্ব বেশ প্রকট হচ্ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা বিমান ওই দ্বীপের ওপর দিয়ে উড়ে গেলে চীন এ বিষয়ে বেশ উস্মা প্রকাশ করেছে।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দক্ষিণ চীন সাগরের যে এলাকায় চীন কৃত্তিম দ্বীপ নির্মান করছে সেখানে দুটি বড় গোলন্দাজ যানের উপস্থিতি দেখা গেছে। কয়েক সপ্তাহ বিষয়টি মার্কিন কর্মকর্তাদের নজরে আসে। তবে ওই যান দুটি এখনও সেখানে অবস্থান করছে নাকি সেগুলি চোখের আড়ালে সরিয়ে ফেলা হয়েছে তা নিশ্চিত করতে বলতে পারেননি কর্মকর্তারা।
পেন্টাগনের মুখপাত্র ব্রেন্ট কলবার্ন জানান, গোলন্দাজ বাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের সজাগ রয়েছে। তবে তিনি এর বিস্তারিত কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
এদিকে সাগরের ওই বিরোধপূর্ণ জলসীমায় নির্মাণ কাজ অবিলম্বে বন্ধ করতে চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাস্টন কার্টার। শনিবার সিংগাপুরে নিরাপত্তা বিষয়ক এক উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনে এ আহ্বান জানিয়েছেন সাংরি-লা সংলাপ নামের বার্ষিক এ সম্মেলনে চীন, ইউরোপ এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও শীর্ষস্থানীয় সামরিক কর্মকর্তারা যোগ দিয়েছেন।
দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধপূর্ণ অঞ্চলে বেইজিংয়ের আচরণ আন্তর্জাতিক নীতির সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ দাবি করে কার্টার বলেন, সব বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় আমেরিকা। বিরোধপূর্ণ এলাকায় ভূমি দখল সংক্রান্ত সব কাজ চীনকে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে । বিরোধপূর্ণ এ অঞ্চলে ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও তাইওয়ান নানা ধরণের সীমান্ত চৌকি নির্মাণ করেছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী সতর্ক করে দিয়ে বলেন, উত্তেজনাপূর্ণ এ অঞ্চলে নিয়মিত প্রবেশ অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র।

