নিজস্ব প্রতিবেদক : একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামালপুরের গ্রেপ্তারকৃত ২ রাজাকার ও পলাতক ৬ রাজাকারের বিরুদ্ধে আদেশের জন্য আগামী ১ জুলাই দিন নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
রোববার ট্রাইব্যুনাল পুলিশি প্রতিবেদন জমা শেষে চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আদেশের জন্য এ দিন ধার্য্য করেন।
এসময় ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত থেকে পলাতক ৬ আসামির গ্রেপ্তারে অপরাগতা বিষয়ক একটি প্রতিবেদন জমা দেন প্রসিকিউটর তাপস কান্তি বল। পুলিশি এই প্রতিবেদন জমা শেষে ট্রাইব্যুনাল মামলার পরবর্তী আদেশের জন্য দিন নির্ধারণ করে দেন।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৫ মার্চ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন কার্যালয়ে চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপুর কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
গত ২৪ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার ধানমণ্ডিস্থ কার্যালয়ে সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হান্নান খান এক সংবাদ সম্মেলনে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।
আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত ৯২ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে জামালপুরের উক্ত আটজনের বিরুদ্ধে হত্যা, লাশ গুম, লুটপাট, নির্যাতন ও অপহরণসহ ১০ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠনের অভিযাগ পাওয়া গেছে।
এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ১৯৬ পাতার দালিলিক প্রমাণ এবং ৪০ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধের সময়কাল ১৯৭১ সালের ২২ এপ্রিল থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ধরা হয়েছে।
এ আসামিরা মুক্তিযুদ্ধের সময় জামালপুরে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে হত্যা, ৫০ হাজার বাড়িঘর ধ্বংস করে প্রায় ১২ কোটি টাকার ক্ষতি সাধন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্ত ৮ জনের মধ্যে ইতোমধ্যে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন- জামালপুর শহরের নয়াপাড়া এলাকার অ্যাডভোকেট শামছুল হক (৭৫) ও সিহংজানি বালক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফুলবাড়িয়ার বাসিন্দা এসএম ইউসুফ আলী (৮২)।
এ মামলায় পলাতক আসামিরা হলেন- মো. আশরাফ হোসেন, অধ্যাপক শরীফ আহমেদ ওরফে শরীফ হোসেন, মো. আব্দুল মান্নান, মো. আব্দুল বারি, হারুন, মো. আবুল কাসেম।

