বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক : অবাধ তথ্য প্রবাহের এই যুগে ক্লাউড কম্পিউটিং শব্দটা ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য সংগ্রহের জন্য এতদিন মানুষ ফিজিক্যাল মেমোরি ব্যবহার করতো। এইসব ফিজিক্যাল মেমোরির মধ্যে রয়েছে কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক, পোর্টবল হার্ডডিস্ক, সিডি-ডিভিডি রম, পেন ড্রাইভ ইত্যাদি। সম্প্রতি কালে ইন্টারনেটের ব্যাপকতা বেড়েছে। ফলে তথ্য সংরক্ষণ করার জন্য মানুষ এখন আর শুধু ফিজিক্যাল মেমোরির উপর নির্ভর করছে না। ব্যবহৃত হচ্ছে ক্লাউড কম্পিউটিং।
ক্লাউড কম্পিউটিং হলো ইন্টারনেট নেটওয়ার্কে যুক্ত থেকে পৃথিবীর যেকোনো স্থানে থাকা আরেকটি কম্পিউটারের ক্ষমতাকে ভাগাভাগি করে নেয়ার প্রযুক্তি। ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবস্থায় অনলাইনের মাধ্যমে লাইভ সফটওয়্যার এবং অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা যায়। এমনকি ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবহার করে তথ্য সংরক্ষণ করেও রাখা যায়। ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবহার করে অনলাইন অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারের সুবিধাও নেয়া যায়। এসব অপারেটিং সিস্টেম চাইলে কম্পিউটারে ইনস্টলও করে ব্যবহার করা যায়।
ক্লাউড কম্পিউটিং-ই হবে ভবিষ্যতের নিয়ন্ত্রক। ক্লাউড কম্পিউটিং এর ট্রেন্ডটাকে জনপ্রিয় করতে মাইক্রোসফট, গুগল, ইয়াহু, আমাজনের মত বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাঠে নেমেছে। এসব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান তাদের গ্রাহকদের বিনামূল্যে ক্লাউড স্পেস ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে। গুগল বহু আগেই চালু করেছে গুগল ড্রাইভ। এই ড্রাইভে বিনামূল্যে তথ্য সংরক্ষণ কর রাখা যায। মাইক্রোসফটে ওয়ান ড্রাইভেও মিলছে বিনামূল্যের ক্লাউড কম্পিউটিং সুবিধা। এমনকি মাইক্রোসফট তাদের জেনুইন অপারেটিং সিস্টেমের সঙ্গে ১ টেরাবাইট ওয়ানড্রাইভ ক্লাউড কম্পিউটিং সুবিধা বিনামূল্যে দিচ্ছে। ফলে অনলাইন স্পেস এসব ব্যবহার করে অনলাইনে তথ্য সংরক্ষণ করছেন অনেকেই।
বর্তমান বিশ্বে তথ্যই শক্তি। যার কাছে যত বেশি তথ্য আছে সে তত বেশি শক্তিশালী। মানুষের মস্তিষ্ক তথ্যের আধার হলেও বেশির ভাগ তথ্য সংরক্ষণের জন্য হার্ডডিস্ককেই বেছে নেন। কিন্তু হার্ডডিস্ক বয়ে বেড়ানো ঝক্কি-ঝামেলার কাজ। এসব ঝামেলা এড়াতে ক্লাউড স্পেসে তথ্য সংরক্ষণ করে রাখা যায়। ফলে ইন্টারনেট সংযোগ দিয়ে যেকোনো জায়গা থেকে ক্লাউড স্পেস থেকে খুঁজে নেয়া যায় দরকারী তথ্য।
অন্যদিকে ফিজিক্যাল স্টোরেজ হারিয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। অপারেটিং সিস্টেম ক্র্যাশ এবং ভাইরাসের আক্রমনে তথ্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এতে করে তথ্যের নিরাপত্তাও ক্ষুন্ন হয়। কিন্তু ক্লাউড স্পেসে সে ভয় নেই। ক্লাউড কম্পিউটিং সম্পূর্ণ নিরাপদ। তথ্য হারানো কিংবা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি নেই। অন্যদিকে ক্লাউড স্পেস থেকে খুব দ্রুত গতিতে তথ্য খুঁজে নিয়ে প্রয়োজনীয় কাজ সারা যায়।
ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের সুবিধায় এটির ব্যবহারকারীরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে হোস্টেড সার্ভিস পায়। অথাৎ একটি সার্ভার কম্পিউটারে অপারেটিং সিস্টেমসহ সকল তথ্য সংরক্ষিত থাতে।
এতে করে উচ্চ গতির ইন্টারনেটের মাধ্যমে ক্লায়েন্ট কম্পিউটার প্রয়োজন মাফিক তথ্য সংরক্ষণ, হালনাগাদ করা কিংবা অনলাইনে সফটওয়্যার ইনস্টল করে ব্যবহার করতে পারে।
ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের নানাবিধা সুবিধা থাকা সত্বেও কিছু অসুবিধাও রয়েছে। প্রথমটি হলো অনলাইন স্টোরেজে হ্যাকারদের হামলা। হ্যাকরা আপনার হোস্টি স্পেসে হামলা করে হাতিয়ে নিতে পারে প্রয়োজনীয় তথ্য। ক্লাউড কম্পিউটিং সুবিধা নেয়ার জন্য উচ্চগতির ইন্টেরনেট সংযোগ থাকতে হয়। আমাদের দেশে এখনও উচ্চগতির ইন্টারনেটের সুবিধার বাইরে বিপুল জনগোষ্ঠী। অন্যদিকে আপনার ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের হোস্টিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান চাইলে তথ্য চুরি ও ফাঁস করতে পারে।

