স্পোর্টস ডেস্ক : ফিফা কর্মকর্তাদের দুর্নীতির কেলেংকারিতে গোটা ফুটবলবিশ্বে সমালোচনার ঝড় শুরু হয়। রাশিয়া ও কাতারকে বিশ্বকাপের আয়োজক করতে ফিফার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কোটি কোটি ডলার অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন বলে জোর অভিযোগ ওঠে। এই অবস্থায় ২০১৮ সালের রাশিয়া ও ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।
তবে ২০১৮ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে ভোটাভুপির গুঞ্জন অস্বীকার করে দেয় ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপের দায়িত্ব পাইয়ে দিতে যথাক্রমে রাশিয়া ও কাতার ফিফার কর্মকর্তাদের কোনো আর্থিক সুবিধা দিয়েছেন কী-না সেটি নিয়ে জোর তদন্ত চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই ও সুইজারল্যান্ডের পুলিশ। তবে ফিফার পক্ষ থেকে জোর দাবি জানানো হয়, দুর্নীতির ঘটনা আগামী দুটি বিশ্বকাপ আয়োজনে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
সুইজারল্যান্ডের একটি বিলাসবহুল হোটেল থেকে বুধবার ভোর রাতে দুর্নীতি ও অর্থ কেলেংকারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে ফিফার সাতজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে আটক করে সুইজারল্যান্ড পুলিশ। এফবিআই’র অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আটক করা হয়।
এদিকে ফিফার নির্বাহী কমিটির ৯ সদস্যকে রাশিয়া ও কাতার বিশ্বকাপ আয়োজনের ভোটাভুটিতে তাদের ভূমিকা কী ছিলো সেই ব্যাপারে বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ড পুলিশের জেরা করার কথা। ফলে আগামী দুটি বিশ্বকাপ রাশিয়া ও কাতারে আয়োজন হওয়া নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।
কিন্তু ফিফার মুখপাত্র ওয়াল্টার ডি গ্রেগরিও ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে নতুন ভোটাভুটির গুঞ্জন অস্বীকার করে দেন। তিনি বলেন, ‘২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপ পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী যথাক্রমে রাশিয়া ও কাতারেই অনুষ্ঠিত হবে।’
এদিকে আগামী শুক্রবার ফিফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনও যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে ফিফা। টানা চার মেয়াদ ফিফা সভাপতির দায়িত্ব পালন করা সেফ ব্ল্যাটার জর্দানের প্রিন্স আলি বিন আল হুসাইনের সঙ্গে সভাপতি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ফিফার দুর্নীতি-কাণ্ডের পরও পূর্ব-ঘোষিত সময় অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে বুধবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
কর্মকর্তাদের দুর্নীতির ঘটনায় ফিফার সভাপতি সেফ ব্ল্যাটার ও উয়েফা সভাপতি মিশেল প্লাতিনিকে এখনও পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। তবে যেকোনো সময় এদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে জানিয়েছে সুইস পুলিশ।
এফবিআই ও সুইজারল্যান্ডের পুলিশের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, অভিযুক্ত ১৪ জনের মধ্যে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার ১৪ থেকে ২০ বছরের জেল হতে পারে।
রাশিয়া ও কাতার বিশ্বকাপ সংশ্লিষ্ট দেশ দুটিতেই অনুষ্ঠিত হবে- ফিফা যতো জোর গলায় বলুক না কেন, আগামী ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে সংশয় থেকেই গেল।

