বরগুনা প্রতিনিধি : তুলাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্বিঘ্নে চলছে প্রাইভেট বাণিজ্য। এ স্কুলের শিক্ষকরা প্রাইভেট বাণিজ্য করে হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতি মাসে হাজার হাজার টাকা। তারা ক্লাসে যথাযথ পাঠদান না দিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিয়ত প্রাইভেটের দিকে ধাবিত করছে।
সরকারিভাবে প্রাইভেট বাণিজ্যের উপর বিধি-নিষেধ থাকলেও এ স্কুলের কিছু শিক্ষক তা উপেক্ষা করে প্রাইভেট বাণিজ্য চালাচ্ছেন। শিক্ষকদের এমন প্রাইভেট বাণিজ্যের কারণে অভিভাবক ও সচেতন মহলের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বরগুনা সদর উপজেলায় অবস্থিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তুলাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কতিপয় শিক্ষক প্রাইভেট বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে চোখে পড়ার মতো।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (গনিত) শাহিন প্রতিদিন গণিত বিষয়ে বিদ্যালয়ের একটি ক্লাসরুমে ১০-১৫ জন শিক্ষার্থীদের সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এক ব্যাচ ও বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত দ্বিতীয় ব্যাচ প্রাইভেট পড়ান। এভাবে প্রাইভেট বাণিজ্যে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় অভিযুক্ত শিক্ষক ক্লাসে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে খামখেয়ালীপনা হয়ে পড়েছে। এতে বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীরা বিষয়ভিত্তিক শিক্ষককের কাছে প্রাইভেট পড়তে অনেকটা জিম্মি হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, অসহায় দরিদ্র পরিবারের ছেলে-মেয়েরা এসব কঠিন বিষয়ে প্রতি মাসে ৩ থেকে সাড়ে ৩শ টাকা প্রাইভেটের টাকার অভাবে পড়াতে না পারায় পরীক্ষার ফলাফলে নেমে আসে পাস-ফেলের খরা। অবশ্য বিত্তশালী পরিবারের ছেলে-মেয়েরা বছরে ৮-১০ মাস প্রাইভেট পড়ায় প্রতিটি পরীক্ষায় আশানুরূপ নাম্বার পেয়ে ফুরফুরে মেজাজে থাকে। পক্ষান্তরে টাকার অভাবে প্রাইভেট থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা ক্লাসে চরম হতাশায় পড়ে পড়ালেখা থেকে মন ফিরিয়ে নিচ্ছে। এসব অভিযোগ খোদ অভিভাবক, সচেতন মহল ও সুশীল সমাজের।
এমনই অভিযোগ করে তুলাতলা সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী তিসার অভিভাবক সেলিনা বেগম। তিনি জানান, গণিত বিষয়ের শিক্ষক শাহিনের কাছে আমার মেয়েকে প্রাইভেট না পড়ানোর কারণে এবার প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় কম নম্বর দিয়েছে। অন্যদিকে, তার কাছে যারা প্রাইভেট পড়িয়েছে তারা পড়ালেখায় ভালো না হলেও তাদের বেশি নম্বর দিয়েছে।
একই অভিযোগ করে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী সাথী আক্তারের অবিভাবক রিনা বেগম বলেন, ‘শাহিন স্যারের কাছে তার মেয়েকে প্রাইভেট না পড়ানোর কারণে তার মেয়ের প্রাপ্ত নম্বরে ফ্লুইড দিয়ে প্রকৃত নম্বর মুছে ভুল নম্বর লিখে রেখেছে। পরে আমরা চ্যালেঞ্জ করে প্রকৃত নম্বর এনেছি। এভাবে প্রাইভেট না পড়লে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার নম্বর নিয়ে শিক্ষকদের এমন আচরণ শিক্ষার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। তাই খুব শিগগিরই এসব শিক্ষকদের শাস্তি ও প্রাইভেট বাণিজ্য বন্ধের দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক শাহিনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি ফোন বন্ধ করে দেন।
এ ব্যাপারে তুলাতলা সরকারি প্রথামিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘প্রাইভেট পড়ানোর বিষয়ে আমি শুনেছি। এখন পড়ানো হয় কিনা তা আমার জানা নেই।’
এদিকে প্রাইভেট পড়ানোর কথা অস্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা জানান, আমার বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষক প্রাইভেট পাড়ায় কিনা তা আমি জানি না।’
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুর জাহান বলেন, ‘প্রাইভেট বাণিজ্যের উপর সরকারের বিধি নিষেধ রয়েছে। সরকারি বিধি অমান্য করে কেউ স্কুলের আসবাবপত্র, রুম ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে প্রাইভেট বাণিজ্য করলে তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রয়েছে। তবে তুলাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গণিত বিষয়ের শিক্ষকের প্রাইভেট পড়ানোর বিষয়টি আমি শুনেছি। যদি ক্লাসরুমে প্রাইভেট পড়ানো হয় তবে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

