ঢাকাSunday , 17 May 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ধর্ষণ মামলায় হ্যাপির নারাজি

Link Copied!

Rubel-happy-নিজস্ব প্রতিবেদক : ধর্ষণ মামলায় বাংলাদেশের জাতীয় দলের ক্রিকেটার মোহাম্মদ রুবেল হোসেনের অব্যহতি চেয়ে তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দাখিল করেছেন চিত্রনায়িকা নাজনীন আক্তার হ্যাপি ।
রোববার ‍ঢাকার ৫ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে হ্যাপি এই নারাজি দাখিল করেন। একইদিন ওই ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে ক্রিকেটার রুবেলও জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তানজিনা ইসমাইল রুবেলের জামিন মঞ্জুর করেন এবং হ্যাপির নারাজি আবেদনের শুনানির জন্য আগামি ৩০ জুন দিন ধার্য করেন।
হ্যাপির পক্ষে নারাজি দাখিল করেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট তুহিল হাওলাদার। তিনি বলেন, ‘তদন্ত কর্মকর্তা সঠিকভাবে মামিলাটির ঘটনাবলী তদন্ত করেননি। তদন্ত করমকর্তা বাদিকে তার সাক্ষিদের হাজির করার জন্য কোনো নোটিশ দেননি এবং বাদির সাক্ষিদের কোনো বক্তব্য না নিয়েই তিনি এই প্রতিবেদন দাখিল করেছেন, যা বাদি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না বিধায় তিনি নারাজি দাখিল করলেন।
উল্লেখ্য, গত ১০ মার্চ একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে নাজনীন আক্তার হ্যাপি বলেন, যদি মামলা তুলে নেয়ার সুযোগ থাকত, তবে তিনি মামলা তুলে নিতেন। কিন্তু সেই সুযোগ না থাকায় এখন থেকে আর মামলায় স্বাক্ষ্য-প্রমাণ দাঁড় করাবেন না। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রুবেলকে আমি খুব ভালোবাসি। ওর সঙ্গে মামলা করে শত্রুতা করতে চাইনি। শুধু ভালোবাসার অধিকার ফিরে পেতে চেয়েছি।’
তিনি আরও জানান, শুধু রুবেলকে দেখার জন্য তিনি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের দুটি ম্যাচ দেখেছেন। হ্যাপির বিশ্বাস, রুবেল যদি তাকে কোনোদিন সত্যি ভালোবেসে থাকেন, তাহলে একদিন না একদিন আবার তার কাছে ফিরে আসবেন।
গত ১৯ মার্চ এই রুবেলের অব্যাহতি চেয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্র্তা নারী সহায়তা ও তদন্ত বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক হালিমা খাতুন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিকটিম হ্যাপিকে ডাক্তারি পরীক্ষা করা হলে ৩ সদস্য বিশিষ্ট মেডিক্যাল বোর্ড জানায় সম্প্রতি হ্যাপির শরীরে কোথাও জোরপূর্বক ধর্ষণের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
হ্যাপির (বাদি) দাবি অনুযায়ী রুবেলের পরিহিত জার্সি, পাপোষ এবং নাইটি পরীক্ষা করে তাতে রুবেলের কোন বীর্য পাওয়া যায়নি মর্মে বিশেষজ্ঞরা অভিমত দেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হ্যাপি একজন প্রাপ্তবয়স্ক, মিডিয়াতে কাজ করা সচেতন ও আধুনিক একজন ব্যক্তি। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া সত্বেও বিবাহ নামক সম্পর্ক ছাড়া যদি তিনি রুবেলের সঙ্গে মেলামেশা করে থাকেন তবে তিনি সেটা তার (বাদি) সম্মতিতেই হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু বাদির অভিযোগ মতে সেটা ধর্ষণের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না।
তাছাড়া হ্যাপি তার বক্তব্যের সমর্থনে কোনো সাক্ষ্য প্রমান হাজির করতে পারেনি বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। হ্যাপি রুবেলের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণের যে অভিযোগ করেছে তা সঠিক নয় বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
প্রতিবেদনের শেষদিকে বলা হয়েছে, সার্বিক তদন্ত, সাক্ষ্য, ডাক্তারি রিপোর্ট, রাসায়নিক পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করিয়া দেখা যায় রুবেলের বিরুদ্ধে হ্যাপির অভিযোগ সঠিক নয়। এজন্য তদন্ত কর্মকর্তা আদালতের কাছে আসামি রুবেলের অব্যহতি প্রার্থনা করেছেন।
এদিকে রুবেলের অব্যহতি চেয়ে তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদনের ব্যাপারে হ্যাপির আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহজামান হাওলাদার তুহিনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, হ্যাপির সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি পরবর্তী করণীয় ঠিক করবেন।
গত ১৩ ডিসেম্বর নবাগত অভিনেত্রী নাজনীন আক্তার হ্যাপি ধর্ষণের অভিযোগ এনে রাজধানীর মিরপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ৯/১ ধারায় এই মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রুবেল তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মামলা দায়েরের পর রাত সাড়ে ৭টার দিকে নায়িকা হ্যাপিকে পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নেয়া হয়। পরদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেন্সিক বিভাগে তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। কিন্তু কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।
নবাগত এ নায়িকা ‘কিছু আশা কিছু ভালবাসা’ চলচ্চিত্রে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এছাড়া তার কয়েকটি চলচ্চিত্র মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্রী।
জাতীয় ক্রিকেট দলের পেসার রুবেল হোসেনকে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে পুলিশের দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজির আবেদন করেছেন অভিনেত্রী নাজনীন আক্তার হ্যাপি।
রোববার ঢাকার ৫ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে তিনি এ নারাজি দাখিল করেন।
এদিকে, আংশিক শুনানি শেষে বিচারক শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন ২০ মে এবং এ সময় পর্যন্ত ১০ হাজার টাকার বন্ডে রুবেলের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।
হ্যাপির আইনজীবী তুহিন হাওলাদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শুনানির সময় রুবেল ও হ্যাপি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগে মিরপুর থানায় গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর রুবেলের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন হ্যাপি। এ মামলায় চারদিন কারাগারেও ছিলেন রুবেল। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশের হয়ে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অংশ নেনন রুবেল।