ঢাকাFriday , 15 May 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় ২য় মহানন্দা সেতু

Link Copied!

Chapaiচাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরাঞ্চল খ্যাত সাতটি ইউনিয়নের আড়াই লক্ষাধিক মানুষের স্বপ্নের দ্বিতীয় মহানন্দা সেতুর নির্মাণ কাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। আগামী ১৬ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে সেতুটি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে পদ্মা ও মহানন্দা নদীর চরবেষ্টিত ইসলামপুর, দেবীনগর, চরবাগডাঙ্গা, সুন্দরপুর, নারায়নপুর, শাহজাহানপুর ও আলাতুলি ইউনিয়ন। দীর্ঘ ৪৩ বছরে এসব ইউনিয়নে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে বড় বড় আম বাগান। নিয়মিত চাষ হয় ভুট্টা, টমেটো, পটল, করলা, বেগুন, মাসকলাই ও বিভিন্ন জাতের ধান। চাষাবাদ শেষে প্রতি বছরই ভালো ফলন পেলেও কৃষকরা ফসলের নায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছিলেন। যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে চরের মানুষেরা স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
বঞ্চিত চরবাসী একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন দেশ স্বাধীনের পূর্ব থেকেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সফরে এসে চরবাসীর দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে দ্রুত সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদের প্রচেষ্টায় ২০১১ সালের ২৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাহেবের ঘাট নামক স্থানে দ্বিতীয় মহানন্দা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সিদ্দিকুর রহমান ভূঁইয়া জানান, প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নামোশঙ্করবাটি জিসি হতে ধুলাউড়ি সড়কে ৫৪৬ দশমিক ৬০ মিটার দৈর্ঘ ও ৮ দশমিক ১০ মিটার প্রস্থ এই সেতুটির নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। নাভানা কনস্ট্রাকশন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সেতুটির নির্মাণ কাজ করছে।
এদিকে, সেতুটি নির্মাণের ফলে চরাঞ্চলের সঙ্গে শহরের যোগাযোগ স্থাপন হওয়ায় শিক্ষা বঞ্চিত মানুষগুলো স্বপ্ন দেখছেন ছেলে-মেয়েদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার।
চরবাগডাঙ্গা ও সুন্দরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওমর আলী এবং মতিউর রহমান জানান, সেতুটি নির্মাণ হওয়ায় চরাঞ্চলের মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে আর বঞ্চিত হবে না। দীর্ঘদিন যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় চরাঞ্চলের গর্ভবতী মায়েদের শহরের হাসপাতালে নিয়ে যেতে খুবই কষ্ট হত। জরুরী চিকিৎসাসহ যেকোনো কাজে শহরে যেতে ৩-৪ ঘণ্টা সময় লাগতো। এখন সেখানে মাত্র ৩০-৪৫ মিনিটে সরাসরি শহরে পৌঁছানো যাবে।
সেতুটি উদ্বোধনের পর এই অঞ্চলের কৃষিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ। সদর উপজেলা কৃষি অফিসার ড. এম আজিজুর রহমান জানান, অন্যান্য দপ্তরের পাশাপাশি চরাঞ্চলের কৃষিপণ্য আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে একটি বড় ভূমিকা পালন করবে। কৃষি উৎপাদনে যে ঘাটতি রয়েছে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে এবং অল্প সময়ে চরাঞ্চলের উৎপাদিত পণ্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।