লাইফস্টাইল ডেস্ক : পাওয়া না পাওয়ার মাঝে কেটে যায় জীবনের পুরোটা সময়। যোগ্যতা আর অধিকারের সমন্বয়ে আমাদের জোটে হয়তো অনেক কিছুই, কিন্তু নিজেরাই তার অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। ধ্বংস করি নিজেদের ব্যক্তিত্ব, প্রতিভা আর সম্মান। আর তাই দুঃখই হয় চিরকালের সঙ্গী। অথচ সামান্য সচেতনতা দুঃখের ভঙ্গুর বেড়াজাল থেকে আমাদের বের করে আনতে পারে সহজে।
ঈর্ষা পরায়ণ
প্রতিযোগী মনোভাব থাকা ভালো কিন্তু ঈর্ষা কখনো না। ঈর্ষা বা পরশ্রীকাতরতা কোনো মনে ঠাঁই পেলে আগুন জ্বালাতে ছাড়ে না। এমন অভ্যাস কাউকে কখনো ভালো মানুষ হয়ে উঠতে দেয় না। উদ্বুদ্ধ করে খারাপ কাজ করতে। একজন ঈর্ষাকাতর মানুষ নিজে উন্নতি করে ভালো করার চাইতে অন্যের ক্ষতি করে উন্নতি করাকে শ্রেয় মনে করে।
লোভ
কোনকিছু পাওয়ার প্রতি যোগ্যতা অনুসারে আপনার আকাঙ্ক্ষা থাকাটা স্বাভাবিক। তবে সেই চাওয়া যদি যোগ্যতা এবং দক্ষতাকে ছাড়িয়ে বিনাকষ্টে পাওয়ার নামান্তর হয় তবে তাকে লোভ বলা চলে। অতিরিক্ত লোভ মানুষকে অসৎ পথে পা বাড়াতে উদ্বুদ্ধ করে। কেড়ে নিয়ে যায় মনের সবটুকু শান্তি।
ক্ষমার অযোগ্য মন
ভালো কদর খারাপের ঘৃণা থাকবে। কিন্তু ক্ষমাযোগ্য অপরাধকে বয়ে বেড়ানো কাছের মানুষকে দূরে সরিয়ে রাখার সমান। ক্ষমা করার মতো যোগ্য একটি মনের অভাবে আপনি হতে পারেন সবচেয়ে অসুখী একটি মানুষ। অথচ আপনার ক্ষমা হয়তো কাছের মানুষটিকে ফিরিয়ে আনবে সৎ পথে। ঘৃণার বশবর্তী হয়ে অন্যের ক্ষতি করাও ভীষণ খারাপ কাজ। জীবনে চলার পথে ঘৃণা ভুলে মাফ করতে পারাটা ভীষণ জরুরি। এই গুণই সবার চেয়ে হয়তো আপনাকে আলাদা করবে।
তুচ্ছ বিষয়ে ভাবনা
তুচ্ছ বিষয়ে সময় নষ্ট করা আর সফলতার পথে নিজেই বাধা সৃষ্টি করা সমান কথা। তুচ্ছ কোনো বিষয়ে নিজেকে জড়িয়ে ফেললে জীবনে কখনোই সুখী ও সফল হওয়া সম্ভব নয়। জীবন একটাই, সে জীবনে সময়ও খুব কম। তাই হিসাব-নিকাশ করে নিজের সময় খরচ করুন।
নো লস প্রজেক্ট
বিফলতাও কিছু দিয়ে যায়। এই ছোট্ট সত্যকে আমরা সহজে মেনে নিতে পারি না। সব সময় নিজের মনে ধারন করতে ভালোবাসি ‘নো লস প্রজেক্ট’ অর্থাৎ বিফলতা কখনোই নয়। বিফলতার ভয়ে কোনো ভালো কাজের উদ্দ্যোগ নিতেও ভয় পায়। একসময় দেখা যায় কোনো কিছুই আর শুরু করা হয় না। পড়ে থাকতে হয় পেছনে। না পাওয়ার ভয়ে পাওয়াটাও হাতছাড়া হয়ে যায়। তাই ঝুঁকি নিতে শিখতে হবে।
আলসতা
শুধু স্বপ্ন দেখে দিন পার করলেই চলবে না, করতে হবে কাজ। স্বপ্ন দেখার সঙ্গে চাই বাস্তবায়নের জোরতর চেষ্টা। অলস ভাবে বসে থেকে যদি জীবনের সোনালি সময় নষ্ট হলে, শেষ বয়সে কোনো উপায় থাকবে না। চিন্তার জড়তা পৃথিবী খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছে। আর সেই সঙ্গে বদলে যাচ্ছে সমাজের রীতিনীতি ও জীবন যাপনের পদ্ধতি। এই পরিবর্তনের প্রতি সহনশীল হতে হবে। তাই চেষ্টা করুন যতটা সম্ভব উন্মুক্ত চিন্তার মানুষ হয়ে উঠতে।

