মাদারীপুর প্রতিনিধি : সাপ আতংক এখনও কাটেনি মাদারীপুরবাসীর। চায়ের দোকান থেকে অফিস পাড়া সর্বত্রই সাপের কামড়ের গুজব। প্রতিনিয়তই বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে খবর আসছে সাপের কামড়ের। অথচ অনুসন্ধানে সাপে কাটা রোগীদের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। আবার কেউ কেউ নিজেদের সাপে কেটেছে বলে দাবি করলেও সাপের কামড়ের কোন ক্ষত দেখাতে পারেনি। এ ঘটনায় গুজব ছাড়ানোর অভিযোগে মঙ্গলবার মাদারীপুর সদর উপজেলার চরমুগরিয়া ফাঁড়ি পুলিশ মদন নামের এক ওঝাকে আটক করেছে।
গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার ইশিবপুর ইউনিয়নের মুসারকান্দি, লুন্দি, হাসানকান্দি, মাঝকান্দি, সাতবাড়িয়া এবং মাদারীপুর সদর উপজেলার শ্রীনদী, চরনাচনা, বাহাদুরপুর, কালীরবাজার, জাফরাবাদ, কালিকাপুর, দক্ষিণ বীরাঙ্গল, পশ্চিম বাহাদুরপুর, হবিগঞ্জ, মীরাকান্দি, রাধার বাড়ি, সৈয়দনূর, দুধখালি, ধুরাইল ইউনিয়নের ১১ গ্রাম, কুনিয়া ইউনিয়নের ৮ গ্রাম, শহরের বাগেরপাড়, চরমুগরিয়াসহ প্রায় ৪০ গ্রামের মানুষ গত ছয় দিন ধরে অদৃশ্য সাপ আতংকে আছে।
অপরদিকে সাপ আতংক থেকে পরিত্রাণ পেতে দু’দিন আগে থেকেই এলাকায় মাইকিং করে আয়োজন করা হয় দোয়া মাহফিল। এ ছাড়াও মসজিদগুলোতে দোয়া মাহফিল ও মন্দিরগুলোতে পূজা-অর্চণাও করা হচ্ছে বলে এলাবাসী সূত্রে জানা যায়।
মাদারীপুর সিভিল সার্জন ডা. দিলীপ কুমার মন্ডল বলেন, মাদারীপুরের কোন হাসপাতাল কিংবা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সাপে কামড়ের কোন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেনি। আসলে গুজব থেকে গ্রামের সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। হয়ত মশা কামড় দিলেও ভাবে সাপে কামড় দিয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড শুরু করেছি।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে প্রধান করে ৪ সদস্যের একটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। তারা বিভিন্ন এলাকায় গুজব নিরসনে কাজ করছে। কে বা কারা এ গুজব ছড়াচ্ছে সে বিষয়ও তদন্ত করা হচ্ছে। সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যদি কাউকে সাপের কামড় দেয় তাহলে তাদের সরাসরি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বিষয়টি গণমানসিক রোগের মতো হয়ে গেছে।

