ঢাকাWednesday , 13 May 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পদোন্নতি নিয়ে দুদকে কমিশনার-সচিব দ্বন্দ্ব চরমে

Link Copied!

Dudokনিজস্ব প্রতিবেদক : পদোন্নতিকে কেন্দ্র করে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) সচিব ও কমিশনারের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে। দ্বন্দ্বের রেশ ধরে দুদকের সচিবকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে বলেও শোনা যাচ্ছে।
আসন্ন এই পদন্নতি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই দুদক সচিব ও কমিশনারদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। সবশেষ দ্বন্দ্বটি চরম আকার ধারণ করে পদোন্নতি নিয়ে আয়োজিত কমিশন সভায় মতবিরোধের মাধ্যমে। আর এ বিরোধের মাধ্যমে দুদকের ৪৭ জন কর্মকর্তার পদোন্নতি নিয়ে চলমান নাটকে নুতন মাত্রা যুক্ত হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট অনেক।
নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, দুদক সচিব ও বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) প্রধান মো. মাকসুদুল হাসান খানকে কমিশন থেকে প্রত্যাহার চেয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে দুদক চেয়ারম্যান চিঠি পাঠিয়েছেন। কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করে সোমবার বিকেলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে দুদক চেয়ারম্যান এ চিঠি (ডিও লেটার) পাঠান।
সূত্র মতে, দুদক সচিবের ক্ষমতাবলে কমিশনের বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) প্রধান হন মো. মাকসুদুল হাসান খান। এই কমিটি কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সমস্ত বিষয় যাচাই-বাছাই করে সুপারিশ পূর্বক কমিশনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা। সচিব যদি কোনো কর্মকর্তাকে ডিপিসির পক্ষ থেকে সুপারিশ না করেন তাহলে তিনি পদোন্নতি পাবেন না।
সূত্র জানায়, গত ১০ মে রোববার, পদোন্নতি নিয়ে দিনব্যাপি কমিশনের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় জ্যেষ্ঠতার বিষয়টি প্রাধান্য দিয়ে ডিপিসির পক্ষ থেকে কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সুপারিশ তুলে ধরেন সচিব মাকসুদুল হাসান। কিন্তু সেখানে একজন কমিশনার জ্যেষ্ঠতা বাদ দিয়ে যোগ্যতা ও দক্ষতার পদোন্নতির প্রস্তাব করে। এ নিয়ে সৃষ্টি হয় মতবিরোধের। জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেন দুদক সচিব। এ নিয়ে সভায় দুদকের সচিব ও কমিশনার মুখোমুখি অবস্থান নেয়। শেষে কমিশন তার ক্ষমতাবলে কর্মকর্তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে পদোন্নতির সিদ্ধান্ত নেয়। সভায় পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তালিকাও চূড়ান্ত হয় এবং পরদিন সোমবার প্রজ্ঞাপণ আকারে প্রকাশের জন্য বিজি প্রেসে সে তালিকা পাঠানোরও সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু দুদক সচিব সাক্ষর না করায় পদোন্নতি তালিকার গেজেট প্রকাশ করতে পারছে না কমিশন।
সূত্র জানায় কমিশনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হতে না পেরে দুদক সচিব আর দুদকে কাজ করতে চান না বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যানকে। তিনি চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করেছেন যেন তাকে দুদক থেকে প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করেন।
বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গতকাল বিকেলে কঠোর গোপনীয়তায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব কামাল আবদুল নাসের বরাবর ডিও লেটার পাঠিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান। সেই ডিও লেটারে সচিব মাকসুদুল হাসান খানকে দুদক থেকে প্রত্যাহারের পাশাপাশি তার পরিবর্তে নতুন আরেকজন সচিবের নিয়োগ চেয়েছেন তিনি।
এই ডিও লেটারের বিষয়ে জানতে দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। আর কমিশনার (তদন্ত) মো.সাহাবুদ্দিন চপ্পুর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে দুদকের জনসংযোগ বিভাগের দায়িত্ব থাকা প্রধান কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে (চিঠি পাঠানোর বিষয়ে) কিছুই বলতে পারব না। আপনি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।’
প্রসঙ্গত, সাবেক দুদক সচিব ফয়জুর রহমান চৌধুরী চলে যাওয়ার পর দুদকের ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ পান অতিরিক্ত সচিব মাকসুদুল হাসান খান। গত বছরের ৬ আগস্ট পদ শূন্য হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ নিয়োগ দেয়া হয়। এর আগে তিনি বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।