চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : শাহ আমানত আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের পাশেই বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। এতে আগুন ধরে যাওয়ায় হেলিকপ্টারে থাকা বিমানবাহিনীর তিন কর্মকর্তাই গুরুতর আহত হয়েছেন।
বুধবার সকাল ১১টা ১০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এমআইএ সেভেন্টিন ৪১০ নামে হেলিকপ্টারটি এ দুর্ঘটনার শিকার হয়। শাহ আমানত বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার নুর-ই-আলম চৌধুরী হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আহতরা হলেন-স্কোয়াড্রন লিডার শাফায়েত, ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার সার্জেণ্ট ফেরদৌস ও পাইলট অফিসার ফুয়াদ। এদের মধ্যে শাফায়েত ও ফেরদৌসের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় চট্টগ্রামে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আর পাইলট অফিসার ফুয়াদ চট্টগ্রামে বিমান বাহিনীর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এঘটনার পরপরই শাহ আমানত বিমানবন্দরে প্রায় দুই ঘন্টা সব ধরণের বিমান চলাচল বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ। সেকারণে শাহ আমানতে অবরতণের জন্য আসা দুটি বিমান ফেরত গিয়ে ঢাকার শাহ জালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমান বন্দরের কর্মকর্তারা দুপুর ১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পর বিমান চলাচল স্বাভাবিক করে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিমান বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় এমআইএ সেভেন্টিন ৪১০ নামে প্রশিক্ষণ হেলিকপ্টারটি শাহ আমানত বিমান বন্দরের পাশে অবস্থিত বিমানবাহিনীর জহরুল হক ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে। ৪০ মিনিট আকাশে উড়ার পর এতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এসময় শাহ আমানতের রানওয়েতে জরুরী অবতরণ করতে গিয়ে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। আর হেলিকপ্টারটিতে সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায়। পরে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিমানবন্দরে অবস্থানরত অগ্নি নির্বাপক দল এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় সেখানে থাকা দুই ফাইলট ও একজন ইঞ্জিনিয়ার আহত হন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত স্কোয়াড্রন লিডার সাফায়েতসহ তিনজনেক উদ্ধার করে বিমানবাহিনীর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা নিয়ে বিমানবাহিনীর কোন কর্মকর্তাই আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য না দিয়ে আইএসপিআরের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন।

