ঢাকাTuesday , 12 May 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সন্ধান মেলেনি যশোরের অসংখ্য যুবকের

Link Copied!

immigrantযশোর প্রতিনিধি : সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে নিখোঁজ রয়েছেন যশোরাঞ্চলের অসংখ্য যুবক। দুই থেকে আট মাসেরও অধিক সময় তাদের কোনো খোঁজ খবর পাওয়া যাচ্ছে না। কারো কারো মৃত্যুর খবর আসছে মোবাইল ফোনে।
এ অবস্থায় নিখোঁজ যুবকদের সন্ধান ও উদ্ধার, মৃতদের ফিরিয়ে আনাসহ দালালদের গ্রেপ্তার দাবিতে স্বজনরা আন্দোলন শুরু করেছেন।
সূত্র মতে, সমুদ্রপথে বিদেশযাত্রা করে দুই মাসের বেশি সময় নিখোঁজ রয়েছে যশোর সদরের সিরাজসিংগা গ্রামের আজিজের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান টিটো, ইব্রাহিম হোসেনের ছেলে হালিম, ডহরসিংগা গ্রামের এশা গাজীর ছেলে আব্দুর রহিম, মতিয়ার রহমানের ছেলে শহীদ, মণিরামপুরের বোয়ালিয়াঘাট গ্রামের রনি, ঝিকরগাছার পলুয়া গ্রামের হাবিবুল্লাসহ অসংখ্য যুবক।
এদের বাড়িতে চলছে কান্নার রোল। তাদের কোনো খোঁজ খবর না পেয়ে স্বজনরা রাস্তায় নেমে আন্দোলন শুরু করেছে। তবে চুপচাপ রয়েছে কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস। জনবল সঙ্কটের অজুহাতে তারা নিয়মিত কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
এদিকে, জেলার মধ্যে মণিরামপুর, কেশবপুর ও সদর উপজেলায় এ সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বলে মনে করছে কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস। খুলনার শ্রম আদালতে যশোর কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের করা ১৮৪টি মামলা দেখলেও সে তথ্য মিলছে। এ মামলার মধ্যে মণিরামপুরের রয়েছে ৯৬টি, কেশবপুরের রয়েছে ২৯টি।
অপরদিকে, মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে দুই মাসের বেশি সময় নিখোঁজ রয়েছে যশোরের কুয়াদা এলাকার ৮ যুবক। তাদের সহযাত্রী সিরাজসিংগা গ্রামের আব্দুল গনির ছেলে লাল্টু, একই এলাকার শামছুদ্দীন গাজীর ছেলে শহিদুল ইসলাম ও ডহরসিংগা গ্রামের মন্টু গাজীর ছেলে ইয়ার আলী মারা গেছেন। এদের মধ্যে লাল্টুর মৃতদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। বাকি দুইজনের মৃতদেহ নদীর পানিতে ফেলে দিয়েছে বলে তাদের পরিবারের লোকজন বিভিন্নভাবে জানতে পেরেছে। নিহত ব্যক্তিদের লাশ ফেরত, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান দাবিতে তাদের স্বজনরা বৃহস্পতিবার মানববন্ধন করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যশোরের সিরাজসিংগা গ্রামের কওসার, সতীঘাটা কামালপুর গ্রামের ইব্রাহিম, রিয়াজ, একই এলাকার আনার, বোলিয়ানপুর গ্রামের জাহাঈীর হোসেন, ডহেরপাড়া গ্রামের রেজাউল ইসলামসহ প্রায় দেড় ডজন ‘আদম ব্যবসায়ী’ সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মালয়েশিয়া নিয়ে গেছে।
ভুক্তভোগীদের স্বজনরা জানান, এই ‘আদম ব্যবসায়ীরা’ এলাকার সহজ সরল সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে অল্প টাকায় মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে।
অপরদিকে, অভিবাসন নিয়ে কাজ করা বাংলাদেশি অভিবাসী মহিলা শ্রমিক অ্যাসোসিয়েশনের (বমসা) সমন্বয়কারী শামসুন্নাহার পান্না জানান, যশোরে অসংখ্য দালাল রয়েছে। তারা ভুলিয়ে-ভালিয়ে বিদেশ নেয়ার নামে মানুষকে বিপদে ফেলছে। তারা সম্প্রতি মিরা লাউখালি গ্রামের আবদার রহমান নামে এক যুবককে আট মাস পরে মরনাপন্ন অবস্থায় উদ্ধার করে দেশে এনেছে।
অভিবাসন নিয়ে কাজ করা ঢাকা আহছানিয়া মিশনের যশোরের কর্মকর্তা আমিরুজ্জামান লিটন জানান, তারা বিদেশ গমনেচ্ছুদের বিভিন্ন সময়ে পরামর্শ দিচ্ছেন এবং দালালদের খপ্পরে না পড়তে সতর্ক করছেন। তারপরও এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে।
আর এবিষয়ে কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের যশোরের সহকারী পরিচালক রাহেনুর ইসলাম বলেন, জেলার মধ্যে সবচেয়ে বিদেশ পাচারের ঝুঁকিতে থাকা মণিরামপুর ও কেশবপুরে তারা সচেতনা কার্যক্রম করছেন।