লাইফস্টাইল ডেস্ক : একবিংশ শতকে এসে যতোগুলো গবেষনামূলক ফিউশনধর্মী ভিন্নধারার পোশাক এসেছে কাতুয়া তার মধ্যে অন্যতম। কাতুয়া ফ্যাশনেবল এবং স্বস্তিদায়ক হওয়ায় তারুণ্যের সঙ্গী হিসেবে যথেষ্ট খ্যাতি পেয়েছে। কাতুয়া ফ্যাশন জগতে যোগ করেছে ভিন্ন এক মাত্রা। ফতুয়া এবং শর্ট পাঞ্জাবি এ দু’য়ের মাঝামাঝি দৈর্ঘ্যর নতুন ও ফিউশনধর্মী পোশাক কাতুয়া। কাতুয়ায় রয়েছে যথেষ্ট ফ্যাশনের ছোঁয়া। কাতুয়া নিয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন সৈকত ইসলাম।
কাতুয়া বৃত্তান্ত
পুরান ঢাকার বেপারীরা ঢিলেঢালা ধরনের বিশেষ এক পোশাক পরতেন। ঢিলেঢালা ধরনের সেই বিশেষ পোশাক খুব আরামদায়ক ছিলো। অনেকে একে বেপারী পাঞ্জাবিও বলতেন। বেপারীদের আরামদায়ক সেই বিশেষ পোশাক এবং কাকতাড়ুয়া থেকে ধারণা নিয়ে ডিজাইন করা হয় ফিউশনধর্মী ভিন্নধারার এক পোশাক। সময়ের পরিবর্তনে ফিউশনধর্মী পোশাকটির নাম নির্ধারিত হয় ‘কাতুয়া’। ২০১১ সালে ফ্যাশনে প্রথম কাতুয়া সংযোজিত হয়। বর্তমানে ফ্যাশন অঙ্গনে কাতুয়া বেশ জায়গা করে নিয়েছে।
উৎসবে কাতুয়া
বিভিন্ন উৎসব, ঈদ, পূজা-পার্বণে কাতুয়ার চাহিদা থাকে বেশি। তবে গরমে এর চাহিদা আরও বেড়ে যায়। গরমের এই সময়ে কাতুয়া বেশ মানানসই।
কাতুয়ার কাপড়
গরম উপযোগী পোশাক কাতুয়ার জন্য সুতি কাপড়কে বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়। অন্যান্য কাপড়ের চেয়ে সুতি কাপড়ে গরম কম লাগে। তাছাড়া কাতুয়ার কাপড় সিলিকন ওয়াশ করার ফলে তা পরতে আরও বেশি আরামদায়ক হয়।
কাতুয়ায় রঙের বাহার
তরুণরা সব সময় উজ্জ্বল রঙের পোশাক বেশি পছন্দ করে। কিন্তু গ্রীষ্মের তাপ সামলাতে সবাই উজ্জ্বল রং এড়িয়ে চলে। কারণ উজ্জ্বল কাপড় বেশি উত্তাপ ছড়ায়। তাই প্রয়োজন ও আরামের কথা মাথায় রেখে সর্বত্রই হালকা ও মিষ্টি রঙের ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। পোশাকে বিভিন্ন হালকা ও মিষ্টি রং ব্যবহার প্রসঙ্গে বলছিলেন ফ্যাশন হাউস ব্যাঙের স্বত্বাধিকারী ও ফ্যাশন ডিজাইনার সায়েম হাসান প্রিন্স। তিনি বলেন- ‘ঋতুর কথা মাথায় রেখে এ সময়ের পোশাকে রয়েছে সাদা, গোলাপি, পেস্ট, ক্রিম, হলদে, নীল, লালচে, মেরুন, হালকা ফিরোজা, আকাশি প্রভৃতি রঙের সমারোহ। কাতুয়ায় বৈচিত্র্যময় এসব রঙের সমারোহ ঘটেছে’।
চলছে যেমন
পাঞ্জাবি ও ফতুয়ার মতো কাতুয়াও একটু ঢিলেঢালা গড়নের পোশাক। হালকা ফিটিংসের কাতুয়া পরতে বেশ স্বস্তিদায়ক। কাতুয়ার কলার পাঞ্জাবির মতোই। রুচিশীল এই পোশাকে বিভিন্ন কালারফুল বোতাম ব্যবহার করা হয়েছে। বিশেষ করে কাঠের বোতাম ব্যবহারে কাতুয়া হয়ে উঠেছে আরও বেশি আকর্ষণীয়। ফুল হাতা ও থ্রি কোয়ার্টার হাতা দুই ধরনের কাতুয়া বাজারে পাওয়া যায়। ফুল হাতায় আবার বোতাম রয়েছে। তাই চাইলে হাতা ভাঁজ করেও পরতে পারেন।
কাতুয়ার নকশায় তারুণ্য
কাতুয়ার নকশায় কাতুয়ার নকশায় তারুণ্যকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। তাই এর ডিজাইনে রয়েছে নান্দনিকতা। এক কালারের কাতুয়া যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে নানাবিধ নকশা সমৃদ্ধ। ফ্যাশন ডিজাইনার সায়েম হাসান প্রিন্স বলেন, এ বছর কাতুয়ায় প্রিন্টের কাপড়ের বিভিন্ন ডিজাইন করা হয়েছে। বিভিন্ন নকশার প্রিন্টের মাঝে ফুলের প্রিন্টই বেশি। এক কালার কাপড়ের ওপর স্টেপ, ডিপ ডাই করা কাতুয়াও এখন বেশ চলছে।

