বাগেরহাট প্রতিনিধি : বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের মরা ভোলার বিমলের চর এলাকায় বনবিভাগের উদ্যোগে ডুবে যাওয়া কার্গো থেকে ভেসে উঠা সার সরানোর কাজ চলছে।
বুধবার সকাল থেকে তারা এ সার সরানোর কাজ শুরু করে। তবে এখনও পর্যন্ত মালিক পক্ষ অথবা সরকারিভাবে কোনো উদ্ধার অভিযান শুরু হয়নি।
এদিকে সকালে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক, খুলনা ও বাগেরহাটের বন কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌঁছান। তবে কার্গোটির দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশে এলাকায় ডুবো চরের কারণে কোনো উদ্ধারকারী জাহাজ সেখানে ভিড়তে পারছে না।
এ ছাড়া নদীতে প্রচুর স্রোত থাকায় উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আমীর হোসাইন চৌধুরী জানান।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সুন্দরবন বিভাগের উদ্যোগে পূর্ব বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আমীর হোসাইন চৌধুরীকে প্রধান করে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিকে এক সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।
মংলা থেকে পাঁচশ টন পটাশ সার (লাল সার) নিয়ে এম.ভি জাবালে নুর নামে একটি কার্গো জাহাজ রোববার সন্ধ্যায় পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের মরা ভোলা এলাকার ভোলা নদী অতিক্রম করছিল। এসময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চরে জাহাজটি আটকে যায়। মঙ্গলবার জাহাজের মালিক কর্তৃপক্ষ অপর দু’টি কার্গোর সাহায্যে “জাবালে নূর” কার্গো জাহাজটি উদ্ধারের চেষ্টকালে মঙ্গলবার বিকালে তলা ফেটে পানি উঠে ধীরে ধীরে জাহাজটি কাত হয়ে আংশিক ডুবে গেছে।
শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন জানান, জাহাজটি রোববার চরে আটকে যায়। মঙ্গলবার বিকেলে কার্গো জাহাজটিকে উদ্ধার করতে গেলে জাহাজের তলাফাটা দেখা যায়। এসময় জাহাজটিতে পানি ঢুকে কিছুটা ডুবে কাত হয়ে গেছে। জাহাজে সার থাকায় পরিবেশের কিছু ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এখনও সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি হয়নি।
শেলা নদীতে তেলবাহী ট্যাঙ্কার ডুবির ৫ মাস পর শরণখোলা রেঞ্জের ভোলা নদীতে এই সারবহী কার্গোডুবির এ দুর্ঘটনা ঘটে। জাহাজটি সার বোঝাই করে মংলা থেকে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়িয়া যাচ্ছিল।

