ঢাকাSaturday , 2 May 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পরিবহন শিল্পে সরকারের বিমাতাসুলভ আচরণ

Link Copied!

Bus-strick-Pic-e1413366906229নিজস্ব প্রতিবেদক : শিল্পনীতি-২০১০ অনুযায়ী সড়ক পরিবহন সেক্টরকে সেবাশিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু স্বীকৃতি পেলেও এখনো পর্যন্ত অন্যান্য শিল্পের মত কোনো সুযোগ সুবিধা পায় না পরিবহন মালিকরা। দেশের উন্নয়ন নির্ভরশীল এই শিল্পের সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাস-ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি মো. ফারুক তালুকদার সোহেল।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব অভিযোগ করেন। এসময় তিনি সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই শিল্পকে অন্যান্য শিল্পের ন্যায় সুযোগ-সুবিধা দেয়ার দাবি জানিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাবনা পেশ করেন।
ফারুক তালুকদার সোহেল জানান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির আওতায় সারা দেশে প্রায় ৩ লাখের বেশি বাস, মিনিবাস, কাভার্টভ্যানসহ নানা ধরনের পরিববহন চলাচল করে। দেশের বাণিজ্যিক সড়কপথের প্রায় ৯৫ ভাগই বেসরকারী মালিকানাধীন। আর এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে একমাত্র বেসরকারী মালিকরাই অবদান রেখে চলেছেন। এই শিল্পের উপর দেশের অনেক গুরুত্ত্বপূর্ণ শিল্প নির্ভর করে। কিন্তু এই শিল্পের উপর বিশেষ কোনো দৃষ্টি নাই।
তিনি আরো বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে এ খাতকে সেভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়নি। তাছাড়া শিল্পনীতি-২০১০ অনুযায়ী সড়ক পরিবহনকে সেবা শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হলেও আজ পর্যন্ত শিল্পের ন্যায় কোনো সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়নি। আসলে আমাদের জন্য নীতি তৈরি করা আছে, কিন্তু প্রয়োগ নাই। তাই এই সেবামূলক খাতকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত করে এই সেক্টরের মালিকদের সুযোগ-সুবিধা দিলে কিছুটা হলেও এই খাতকে সচল করা সম্ভাব হবে।’
তিনি এ খাতে ব্যাংক সুদের হার কমানোর দাবি জানিয়ে বলেন, ‘বিভিন্ন সেবা শিল্পের ব্যাংক লোন প্রদানের ক্ষেত্রে সুদের হার নির্ধারণ করা আছে ৭ শতাংশ। কিন্তু পরিবহন শিল্পের ব্যাংক সুদের হার ১৫-১৮ শতাংশ করা আছে। এছাড়া গত তিনবছর থেকে ভাড়ায় চালিত বাণিজ্যিক যানবাহনের উপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। অথচ আমরা গাড়ী রুট পারমিট, ট্যাক্স টোকেন, ফিটনেস ও রেজিস্ট্রেশনের জন্য কর ও ফি প্রদান করে আসছি। তারপরও ওইসব কর ও ফির উপর ভ্যাট করা একটি অবাস্তব নিয়ম। এই নিয়ম পৃথিবীর অন্যকোনো দেশে আছে কি না আমার সন্দেহ। তাই এধরনের ভ্যাট প্রত্যাহারসহ অন্যান্য শিল্পের ন্যায় এই শিল্পের ব্যাংক সুদের হার ৭ শতাংশ নির্ধারণ করার দাবি জানাচ্ছি।’
এসময় তিনি বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে বলেন, ‘২০১৩-১৪ অর্থ বছরের বাজেটে বাস মালিকদের অনুমিত আয়কর আগের চেয়ে কয়েকগুন করা হয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে প্রায় দিগুন করা হয়েছে। এ কারণে আজ এই খাতের মালিকেরা হতাশ হয়ে পরেছে। যার একটি বিরুপ প্রভাব দেখা দিয়েছে। এবারের বাজেটে আগের অবস্থায় বহাল রাখার দাবি জানাচ্ছি। অন্যান্য শিল্পের মূলধনী যন্ত্রাংশের ন্যায় এই শিল্পের মূলধনী যন্ত্রাংশের আমাদানি শুল্ক ৩ শতাংশ নির্ধারণসহ পৃথক হারমোনাইজড সিস্টেম কোড (এইচএস কোড) নির্ধারণ করা। পরিবহন শিল্পের কাঁচামালসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশের ৫ শতাংশসহ পৃথক এইচএস কোড নির্ধারণ করা। মেরিং ফিশিং এ ব্যাবহৃত ইঞ্জিনের ন্যায় পরিবহন শিল্পের যানবাহনে ব্যাবহৃত ইঞ্জিনের আমাদনি শুল্ক ৩ শতাংশ নির্ধারণ করার দাবি জানাচ্ছি।’
আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন- শুল্কনীতির সদস্য ফরিদ উদ্দিনসহ অন্যান্য বিভাগের সদস্য ও বাজেট প্রণয়ন কমিটির সদস্যরা। এছাড়া ইলেক্ট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যালস, কম্পিউটার, আইসিটি টেলিযোগাযোগ, অটোমোবাইল ও ট্রান্সপোর্ট (স্থল ও নৌ) এর প্রতিনিধিরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।