কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : ‘ভবিষ্যতের বিনিয়োগ কমাবে ম্যালেরিয়া’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারাদেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস। দেশের অন্যান্য জায়গার মতো কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলাতেও নানা কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়েছে। এলাকাটি ম্যালেরিয়া মুক্ত হলেও ভয়, শঙ্কা কাটছে না।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণকারী বেসরকারি সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সাল থেকে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে নানা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারিভাবে রোগী সনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা দেয়ায় বর্তমানে ম্যালেরিয়াকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে ভারতের গারো পাহাড় ঘেষা সীমান্ত এলাকা হওয়ায় এই এলাকাকে ম্যালেরিয়া ঝুঁকিমুক্ত ঘোষণা করা যাচ্ছে না।
ইনন্টিট অব এলার্জি ক্লিনিক্যাল ইমোনোলজি অব বাংলাদেশ (আইএসিআইবি) সংস্থার অঞ্চল ম্যানেজার শামসুল দোহা জানান, বাংলাদেশের ১৩ জেলার ৭০ উপজেলা এখনও ম্যালেরিয়া ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। ওই তালিকায় রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলা রয়েছে। ভারতের আসাম ও মেঘালয় রাজ্যের গারো পাহাড় ঘেষা এ দুই উপজেলার প্রায় ৪৫ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা রয়েছে। সীমান্তের দুইপাশে অবস্থিত গ্রামের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও চলাফেরা আছে। আর এ কারণে পাহাড় থেকে জীবানু বহন করছে সীমান্তবাসীরা। আবার জীবানুযুক্ত মশাও ঢুকছে বাংলাদেশের ভেতরে। যেকোনো সময় ম্যালেরিয়া জীবানু ঢুকতে পারে। তাই এই এলাকাকে ম্যালেরিয়া মুক্ত ঘোষণা করা যাচ্ছে না।
সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে বেসরকারি সংস্থা আইএসিআইবি। সংস্থার অঞ্চল ম্যানেজার আরো জানান, ২০০৭ সালে রৌমারী ও রাজীবপুরে যখন ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে তাদের কার্যক্রম শুরু হয় তখন ভয়াবহ অবস্থা ছিল ম্যালেরিয়ায়। প্রথম দু’বছরে দুইজন রোগী ম্যালেরিয়া মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও পরবর্তিতে আর মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেনি। তাদের কার্যক্রমের ফলে ম্যালেরিয়া রোগী ও আক্রান্তের সংখ্যা কমতে থাকে। বর্তমানে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে থাকলে মুক্ত ঘোষণা করা সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের কার্যক্রমে রোগী সনাক্তকরণ ও বিনামূল্যে ওষুধ দেয়া হয়। চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই উপজেলায় ৩ হাজার ২৫ জনের রক্তপরীক্ষা করে ১ জনের শরীরে ম্যালেরিয়া পজেটিভ জীবানু পাওয়া গেছে।
সংস্থার দেয়া তথ্যে আরও জানা গেছে, ২০০৭ সাল থেকে সংস্থার পক্ষ থেকে প্রায় ৭০ হাজার পরিবারের মাঝে কীটনাশকে চুবানো বিশেষ ধরনের মশারি বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও গণসচেতনতা মূলক কার্যক্রম গননাটক, জারীগান, কর্মশালা ও পল্লী চিকিৎসকদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। সরকারের সহযোগীতা নিয়ে এসব কর্মসূচী পালন করা হয়েছে।
উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, সরকারি ভাবে ২০১৪ সালে মাত্র ১৫ জন ম্যালেরিয়া রোগী সনাক্ত করে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত কোনো রোগী পাওয়া যায়নি।
রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শাহজাহান কবীর জানান, ভারতের আসাম ও মেঘালয় রাজ্যের সীমান্ত ঘেষা মানুষের শরীরেই কেবল ম্যালেরিয়া জীবানু পাওয়া যাচ্ছে। পাহাড়ের বনজঙ্গল থেকে জীবানু যুক্ত মশায় আক্রান্ত হচ্ছে সীমান্তের মানুষ। একারণে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে থাকলেও মুক্ত ঘোষণা করা যাচ্ছে না। তাই ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম সরকারি ও বেসরকারি ভাবে চালিয়ে যেতে হবে।

