চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) নিরাপত্তা নিরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। চার দিনব্যাপী এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিমানবন্দরটির সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখেছে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদলটি। নিরীক্ষা শেষে সন্তোষ প্রকাশ করে দলটির প্রধান জানিয়েছেন যে বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় কোনো ধরনের বড় ধরনের ত্রুটি বা ঘাটতি পাওয়া যায়নি।
আন্তর্জাতিক এই সংস্থার ইউনিভার্সাল সিকিউরিটি অডিট প্রোগ্রাম বা ইউএসএপি-সিএমএ কাঠামোর আওতায় সম্প্রতি এই মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরু হয়। চার সদস্যের এই বিশেষজ্ঞ দলে নেতৃত্ব দেন ক্যালাম ভাইন এবং তার সঙ্গে ছিলেন আলেসান্দ্রা জোহানা অ্যারেনাস, শেখ আবদুল্লাহ বিন আব সুকর ও পি এ জয়কণ্ঠ। কড়া নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো এই কার্যক্রমে বিমানবন্দরের বিভিন্ন নথিপত্র এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমও গভীরভাবে যাচাই করা হয়েছে।
মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিমানবন্দরের ভেতরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা পরীক্ষা করেন বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যে হোল্ড ব্যাগেজ ও কেবিন ব্যাগেজ স্ক্যানিং মেশিন, এক্সপ্লোসিভ ট্রেস ডিটেকশন সিস্টেম বা ইটিডিএস, ওয়াক-থ্রু এবং হ্যান্ডহেল্ড মেটাল ডিটেক্টরের মান যাচাই করা হয়। এছাড়া এসব আধুনিক যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মীদের পেশাগত সনদপত্রগুলোও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হয়েছে।
নিরাপত্তাকর্মীরা নির্ধারিত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে তল্লাশি চালাচ্ছেন কি না, তা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে নিশ্চিত হয়েছেন নিরীক্ষকরা। এমনকি রানওয়ে, কার্গো টার্মিনাল এবং পাস নীতিমালা অনুযায়ী যাত্রী ও দর্শনার্থীদের প্রবেশাধিকারের বিষয়টিও কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মো. নুর হোসেন জানান যে নিরীক্ষার বিস্তারিত সুপারিশমালা পরবর্তীতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদর দপ্তরে জমা দেওয়া হবে।

