ঢাকাWednesday , 28 October 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাতক্ষীরায় এডিসির অপসারণ দাবিতে আল্টিমেটাম

Link Copied!

সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) রিপন কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট আকরাম আলীকে মারধর ও লাঞ্ছিত করা এবং আইনজীবী সমিতির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. নুরুল আমিনকে কক্ষে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদে তার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাতক্ষীরা জেলা ইউনিটের নেতারা। মানববন্ধন থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে অপসারণের দাবি জানানো হয়। অন্যথায় লাগাতার কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন তারা। রবুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির শহীদ মিনারের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, সাতক্ষীরা জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. আকবর আলী। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ১ অক্টোবর জেনারেল সার্টিফিকেট আদালতে সি.সি. মামলা নং ১৭৫/২৬-এর শুনানিকে কেন্দ্র করে ম্যাজিস্ট্রেটের কক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট আকরাম আলীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এডিসি রিপন কুমার বিশ্বাস। একপর্যায়ে তাঁর গলার টাই ধরে মারপিঠ ও লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা। বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু সমাধানের উদ্দেশ্যে সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির সদস্য সচিব আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট মো. নুরুল আমিন গত ২৬ অক্টোবর সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে এডিসির আমন্ত্রণে তাঁর কক্ষে যান। সেখানে কথোপকথনের একপর্যায়ে তাঁকে প্রায় ৪৫ মিনিট কক্ষে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। এসব ঘটনার প্রতিবাদে এবং এডিসির অপসারণের দাবিতে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান বক্তারা। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন আইনজীবীকে লাঞ্ছিত করা মানে দেশের ৮০ হাজার আইনজীবী সমাজকে অসম্মান করা। তাঁরা অভিযোগ করেন, এডিসি রিপন কুমার বিশ্বাস এর আগে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আইনজীবীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে তিনবার আদালত বর্জনের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া অ্যাডভোকেট আকবর আলীসহ প্রায় ১০ জন আইনজীবী তার অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তাঁরা। বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, এডিসি রিপন কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আইনজীবী সমাজের একটি অংশের সঙ্গে বৈরী আচরণের অভিযোগ রয়েছে। তার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়েও বক্তব্য দেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অ্যাডভোকেট মো. নুরুল আমিন তাঁর বক্তব্যে একটি অর্পিত সম্পত্তিসংক্রান্ত মামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অর্পিত মামলা নং ৮০৯/২০১২-এর রায় হয় ২০২৩ সালের ১৮ এপ্রিল এবং ডিক্রি হয় ২৪ এপ্রিল। তার নিয়োগ দেওয়া হয় ২০২৫ সালের ৪ মে। তার দাবি, পূর্ববর্তী আইনজীবী অ্যাডভোকেট প্রবীর মণ্ডল নির্ধারিত সময়ে আপিল করেননি। এ কারণে তামাদিসংক্রান্ত আইনি জটিলতা তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে তাঁকে যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরোও বলেন, দীর্ঘ ২ বছর তামাদির মধ্যে পূর্বের আইনজীবী অ্যাডভোকেট প্রবীর মন্ডল আপিল করেনি।অর্পিত আইনে আপিলের ক্ষেত্রে ১৮ ধারায় বলা হয়েছে ৪ এর ২ ধারা মতে রায় প্রকাশের ৪৫ দিনের মধ্যে আপিল মামলা করতে হয়।তামাদি আইনে ৫ ধারা মতে কোনো গ্রহনযোগ্য নহে।সেক্ষেত্রে তামাদি পিটিশন দিয়ে কোনো লাভ নাই।সেকারনে তামাদি দোষ করলে অ্যাডভোকেট প্রবীর কুমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় নেই। অ্যাডভোকেট নুরুল আমিনকে নোটিশ করে অবগত করাননি। নুরুল আমিন আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তার দাবি, গত ২৬ অক্টোবর মানববন্ধনের ঘোষণা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের কাছে তাকে নিয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর কথা বলা হয়েছিল। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান পিন্টু, অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম,অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন, অ্যাডভোকেট হেলালুজ্জামান , অ্যাডভোকেট জাকির, অ্যাডভোকেট শাহাজান, অ্যাডভোকেট জগলু,অ্যাডভোকেট একরাম, অ্যাডভোকেট জাহিদুর রহমানসহ শতাধিক আইনজীবী।ন মানববন্ধন থেকে এডিসি রিপন কুমার বিশ্বাসকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, তাদের দাবি পূরণ না হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদনসহ লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি পালন করা হবে। তাঁরা বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ,সাতক্ষীরার দায়িত্বপ্রাপ্ত আইন মন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণের কথাও জানান।