লাইফস্টাইল ডেস্ক: ‘বাইরে বৈশাখের কাঠফাটা রোদ। ভিড় ঠেলে পুরো ঢাকা শহর ঘুরে যা দেখতে পেতাম তার কিছুটা স্বল্প পরিসরে দেখতে পেয়েছি। সবচেয়ে বড় কথা রোদের আঁচ বাঁচিয়ে নতুন পোশাক আর সাজ অটুট রাখতে ঘরোয়া মেলার জুড়ি নেই।’ বলছিলেন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুমানা ফেরদৌস।
রুমানার সঙ্গে কথা হয় ধানমণ্ডির ইম্পোরিয়াম ব্যাংকোয়েট হলের ৭ম তলার অডিটরিয়ামে। গতকাল থেকে এখানে শুরু হয়েছে দুইদিন ব্যাপি বৈশাখী মেলা।
দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্যে বেড়ানো ও কেনাকাটার সুবিধার জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
ক্যান্টনমেন্ট থেকে বন্ধুদের নিয়ে মেলায় ঘুরতে এসেছিলেন নাফিসা। তিনি বলেন, ‘এই মেলার প্রধান আকর্ষণ নিরিবিলি পরিবেশ। কোনো রকম ভিড় ছাড়াই একই জায়গায় বাংলার ঐতিহ্যবাহী সব পণ্যের পসরা জানানো হয়েছে। আয়োজন দেখে আমি সত্যি অভিভূত। গরমে বাইরে ঘোরা কষ্টসাধ্য। এখানেই বরং স্বস্তিতে বৈশাখকের অনুষ্ঠান উপভোগ করা যাচ্ছে।’
মেলায় কথা হয় প্রিন্স এবং ইমরানের সঙ্গে। এই দুই সহোদর স্ববান্ধবে মেলায় এসেছিলেন। মেলার আসার কারণ জানাতে গিয়ে প্রিন্স বলেন, ‘সকালে রমনার বটমূলে গিয়েছিলাম। সেখানে গরমের মধ্যে ঘোরাঘুরি করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেছি। তাই ভাবলাম হিমশীতলতার মাঝে বৈশাখী মেলা উপভোগ করি। তাই এখানে আসা।
একই কথা জানালেন ইমরানও। তিনি বলেন, আমি থাকি চট্টগ্রামে। বৈশাখের আনন্দ উপভোগ করতে ঢাকায় এসেছি। এখানে মেলা হচ্ছে শুনে ঢুঁ মেরে গেলাম। সময়টা ভালোই কাটলো।’
এই মেলার অন্যতম আয়োজক ওয়েডিং সলিউশনসের প্রধান আলোচিত্রী এবং সিইও হুসাইন এ এইচ আসিফ বলেন, ‘পহেলা বৈশাখের আনন্দকে খানিকটা বাড়িয়ে দেয়ার জন্য আমাদের এই বিশেষ আয়োজন। অনেকেই আছেন রোদের মধ্যে ঘুরতে পছন্দ করেন না। তাদের জন্য ঘরোয়া পরিবেশে একই ছাদের নিচে সব ধরণের বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
আসিফ জানান, বেলা যত বাড়ছে দর্শনার্থীদের সংখ্যাও বাড়ছে। ক্রেতা-দর্শনার্থীরা স্বপরিবারে ঘুরে ফিরে তাদের পছন্দসহ জিনিস কিনছেন। বাড়তি পাওনা হিসেবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করছেন।

