কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিকাশের ফলে ব্যাপক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলেও এর সঙ্গে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জও সৃষ্টি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ‘মেশিন ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইমার্জিং টেকনোলজিস (MIET)-২০২৬’ শীর্ষক তৃতীয় আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। নোবিপ্রবির বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে দুই দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, এআইয়ের দ্রুত বিকাশ বাংলাদেশের সামনে যেমন নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে, তেমনি নতুন চ্যালেঞ্জও নিয়ে আসছে। এ পরিস্থিতিতে শুধু প্রচলিত শিল্পের ওপর নির্ভর না করে বাংলাদেশকে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, সেমিকন্ডাক্টরসহ উচ্চপ্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশে কাজ করার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। জাতীয় ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬-এ এক হাজারেরও বেশি উদ্ভাবন উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব উদ্ভাবনকে গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে বাস্তবমুখী পণ্যে রূপান্তর এবং বাজারজাতকরণের লক্ষ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কাজ করছে। সচিব আরও বলেন, স্থানীয় সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রযুক্তির মাধ্যমে কার্যকর সমাধান বের করতে হবে। এজন্য অর্থায়ন গুরুত্বপূর্ণ হলেও অনেক ক্ষেত্রে উদ্যোগের অভাবই সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সরকারি-বেসরকারি খাত ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা সমন্বিতভাবে কাজ করলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন সংগ্রহ করা সম্ভব।
তিনি জানান, জাতীয় ইনোভেশন ফেয়ারে উপস্থাপিত গবেষণাপত্র ও উদ্ভাবনগুলোর সারসংক্ষেপ তৈরি করে সেগুলোকে কীভাবে বাস্তব প্রয়োগ ও বাজারজাতকরণের পর্যায়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে সহায়তা দিতে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। সভাপতির বক্তব্যে নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, সাইবার নিরাপত্তা রোবোটিকসসহ উদীয়মান প্রযুক্তি মানুষের জীবন ও সমাজব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনছে। তাই গবেষণাকে শুধু গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধান এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও সবার জন্য সহজলভ্য। ভবিষ্যৎ গবেষক, উদ্ভাবক ও প্রযুক্তিবিদ তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। উপাচার্য জানান, এবারের সম্মেলনে প্রায় ৫০টি প্রতিষ্ঠানের গবেষক অংশ নিচ্ছেন। গৃহীত গবেষণাপত্রের ২৪ শতাংশে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এতে সম্মেলনের আন্তর্জাতিক পরিসর ও গবেষণা সহযোগিতার সম্ভাবনা আরও শক্তিশালী হয়েছে। কনফারেন্সে এবার মোট ৩৩৫টি গবেষণাপত্র জমা পড়ে। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ৫৪টি পেপার চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছে। মেশিন লার্নিং, ডেটা সায়েন্স, ইন্টারনেট অব থিংস (IoT), ক্লাউড কম্পিউটিং, সেন্সিং ও নিরাপত্তাসহ উদীয়মান প্রযুক্তির প্রয়োগ নিয়ে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করছেন অংশগ্রহণকারীরা।
বাংলাদেশ ছাড়াও ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের দুই শতাধিক গবেষক সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন।কনফারেন্সে কী-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের বিগ ডেটা অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ল্যাবের পরিচালক অধ্যাপক ড. লতিফুর খান, পারডু ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মুহাম্মদ এম. হুসেইন, টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শেখ মো. শরিফুল ইসলাম এবং হিউস্টন ইউনিভার্সিটির মূরস প্রফেসর ঝু হান। এ ছাড়া ইনভাইটেড স্পিকার হিসেবে বক্তব্য রাখেন আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অধ্যাপক ড. মো. শামিম আখত্রা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আর্গন ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির ড. আহমেদুর রহমান শোভন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আলমসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনের সহযোগী হিসেবে রয়েছে সেন্টার ফর ন্যাচারাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ (CNSER), ক্রিয়েটিভ ইনস্টিটিউটস অব ক্যারিয়ার্স, টেকনোলজি অ্যান্ড রিসার্চ (CICTR) এবং স্প্রিংগার।

