পুষ্টি ঘাটতি পূরণে জিংকসমৃদ্ধ ব্রি ধান-১০২-এর আবাদ সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে ঠাকুরগাঁওয়ে মাঠ দিবস ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেলে নবগঠিত ভূল্লী উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের মাদারগঞ্জ এলাকায় ফাইজা ফাবিহা ফিলিং স্টেশন প্রাঙ্গণে এ মাঠ দিবসের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে এলাকার শতাধিক কৃষক-কৃষাণী অংশগ্রহণ করেন। মাঠ দিবসে কৃষকদের সামনে জিংকসমৃদ্ধ ব্রি ধান-১০২, ব্রি ধান-১০০ ও ব্রি ধান-৭৪ জাতের উৎপাদন সক্ষমতা, চাষাবাদ পদ্ধতি এবং পুষ্টিগুণ তুলে ধরা হয়। কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানান, দেশে শিশু ও নারীদের মধ্যে জিংকের ঘাটতি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সমস্যা। জিংকসমৃদ্ধ ধানের জাতগুলো নিয়মিত খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলে এ ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ইএসডিও’র কোঅর্ডিনেটর কৃষিবিদ মো. আশরাফুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন হারভেস্টপ্লাস বাংলাদেশের প্রজেক্ট ম্যানেজার কৃষিবিদ মো. শাহিনুল কবির, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহিন আলী, উত্তম কুমার বর্মণ এবং ইএসডিও’র প্রোগ্রাম অফিসার মো. আবু তালহা (শিশির)সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা বলেন, শুধু খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করলেই হবে না, মানুষের জন্য পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য নিশ্চিত করাও জরুরি। এ লক্ষ্যেই বিজ্ঞানীরা জিংকসমৃদ্ধ ধানের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন, যাতে সাধারণ মানুষ ভাতের মাধ্যমেই প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করতে পারে। তারা আরও বলেন, মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী এবং মাঠ দিবসের আয়োজন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষকদের জিংকসমৃদ্ধ ধানের আবাদ বৃদ্ধি এবং এসব ধানের চালের ভাত খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান বক্তারা। অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী কৃষকরা জিংকসমৃদ্ধ ধানের বিভিন্ন জাতের মাঠ পরিদর্শন করেন এবং চাষাবাদ বিষয়ে কৃষি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

