ময়মনসিংহের ভালুকাসহ বৃহত্তর অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং জনদুর্ভোগ নিরসনে যমুনা সেতু থেকে সখিপুর, ভালুকা, গফরগাঁও ও কিশোরগঞ্জ হয়ে ভৈরব সেতু পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দ্রুত চার লেনে উন্নীত করার দাবি উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, শিল্প উদ্যোক্তা ও সচেতন মহল বলছেন, দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই আঞ্চলিক সড়কটি বর্তমানে যানজট, ধীরগতি ও দুর্ঘটনার কারণে মানুষের ভোগান্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ভালুকা দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চলে পরিণত হওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার শ্রমিক, ব্যবসায়ী এবং পণ্যবাহী যানবাহন এই সড়ক ব্যবহার করছে। এছাড়া কিশোরগঞ্জ, গফরগাঁও, সখিপুর ও আশপাশের অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ও কৃষিপণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও সড়কটির গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। কিন্তু অধিকাংশ স্থানে সড়কটি এখনও দুই লেন হওয়ায় প্রতিনিয়ত যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এবং পরিবহন ব্যয় বাড়ছে। স্থানীয়দের মতে, সড়কটি চার লেনে উন্নীত করা হলে দেশের উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে কিশোরগঞ্জ, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চট্টগ্রাম বন্দর এলাকার যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত হবে। এতে উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্য স্বল্প সময়ে ও কম খরচে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে শিল্পখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে মতামত দিতে গিয়ে ভালুকার শিক্ষক মো. আলীমুর রাজী রাজীব বলেন, বর্তমানে এই সড়কে প্রতিদিন অসহনীয় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। শিল্পাঞ্চল হওয়ায় ভালুকার গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। কিন্তু সরু সড়কের কারণে মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত চার লেনে উন্নীত করা হলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই সড়ককে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চার লেনে উন্নীত করা প্রয়োজন। এতে শুধু ভালুকা নয়, বৃহত্তর অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে।

