মেহেরপুরে ফেনসিডিল রাখার অভিযোগে রানা আহমেদ নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকালে মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জ্বজ আদালতের বিচারক মো: গোলাম কবীর এই রায় দেন। দণ্ডিত রানা আহমেদ জেলার গাংনী উপজেলার ছাতিয়ান গ্রামের হামিদুল হকের ছেলে। মামলার অপর দুই আসামী সাইফুল ইসলাম ও রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেখসুর খালাস দেন। ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২৯ এপ্রিল দুপুরের দিকে পিরতলা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই বাবলু মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম কাজিপুর-বামন্দী সড়কের হাড়াভাঙ্গা সেন্টারবাজার এলাকায় একটি ড্রাম ট্রাক যার নং (ঢাকা মেট্রো-চ-২০-৯৪৪৯) থামার সংকেত দেন। ওই সময় ড্রাম ট্রাকটি থামার সাথে সাথে ট্রাকের পেছনে থাকা ৩ ব্যক্তি লাফিয়ে পালিয়ে যায়। ওই সময় সাব্বির হোসেন, রানা আহমেদ ও দুখু মিয়া নামের তিনজনকে আটক করে পুলিশ। এসময় স্বাক্ষীদের উপস্থিতিতে ট্রাকটির সিটের তলে তল্লাশী চালিয়ে ৩৩৯ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। ফেনসিডিল উদ্ধারের ঘটনায় ২০২৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে গাংনী থানায় একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। গাংনী থানার মামলা নং ২১, জিআর মামলা নং ৭১/২২, সেসন মামলা নং ৮৬/২০। পরে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা আদালতে মামলার চার্জশীট দাখিল করেন। মামলায় ৯ জন স্বাক্ষী তাদের স্বাক্ষ্য প্রদান করেন। এতে রানা আহমেদ দোষী প্রমাণীত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালতের বিচারক তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন। মামলায় রাস্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রশিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম ও আসামি পক্ষে কেএম নুরুল হোসেন রঞ্জু কৌশুলী ছিলেন। এছাড়া বেখসুর খালাসপ্রাপ্ত আসামি সাইফুল ইসলাম ও রুহুল আমিনের কৌশলী ছিলেন, অ্যাডভোকেট কামলরুল হাসান ও অ্যাডভোকেট আমানুল্লাহ আল আমান।

