ঢাকাWednesday , 7 January 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পঞ্চগড়ে সবুজ চা পাতার দাম নির্ধারণ, বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন

Link Copied!

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সবুজ চা পাতার মূল্য নির্ধারণী সভায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক পঞ্চগড়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় জেলার চা শিল্প সংশ্লিষ্ট চাষি, কারখানা মালিক ও অন্যান্য অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি কেজি সবুজ চা পাতার সর্বনিম্ন মূল্য ২৫ টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল্য ২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে সব চা চাষির জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা কৃষি অফিসারের মাধ্যমে এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ইউনিয়ন কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় আগামী দুই মাসের মধ্যে সব চা চাষির নিবন্ধন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সভায় জানানো হয়, কোনো চা চাষি নিবন্ধন না করলে তিনি সরকারি সার সুবিধা পাবেন না। পাশাপাশি অনিবন্ধিত চাষিদের উৎপাদিত সবুজ চা পাতা কোনো কারখানা কিনতে পারবে না এবং তারা সরকারি প্রশিক্ষণ থেকেও বঞ্চিত হবেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সবুজ চা পাতার কর্তন শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের পর কোনো কারখানা সবুজ চা পাতা কিনতে পারবে না। নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট কারখানার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সভায় জানানো হয়। ৩১ ডিসেম্বরের পর উৎপাদিত সবুজ চা পাতা দিয়ে গ্রিন টি তৈরির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ চা বোর্ড প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করবে। এছাড়া পঞ্চগড়ের সবুজ চা পাতার মূল্য নির্ধারণী কমিটিকে বাংলাদেশ চা বোর্ডের অনুমোদন নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। নীতিমালায় উল্লিখিত প্রেসক্রাইবড কমিটি গঠন করে তা বাংলাদেশ চা বোর্ডে প্রেরণ করা হবে। সভায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রায় ৫০০ কোটি টাকার পঞ্চগড়ের চা শিল্প রক্ষায় জেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকবে। চা চাষি, কারখানা মালিক ও শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে এই শিল্প রক্ষায় কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। তবে মাঠপর্যায়ে এসব সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও সবুজ চা পাতা কেনাবেচার শেষ সময় ছিল ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, তারপরও এখন পর্যন্ত কিছু কারখানা পাতা কিনছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় চাষিদের দাবি, প্রকৃত চাষকদের উৎপাদিত পাতা ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে দালালদের কাছে মজুত থাকা পাতা চুক্তিভিত্তিকভাবে কারখানায় সরবরাহ করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। চা চাষিরা বলছেন, এই অনিয়ম বন্ধ না হলে ন্যায্যমূল্য ও নীতিমালার সুফল প্রকৃত চাষকদের কাছে পৌঁছাবে না। দ্রুত কার্যকর তদারকি ও সিদ্ধান্তের কঠোর বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে নর্থ বেঙ্গল চা ফ্যাক্টরির ম্যানেজার মো. সোহাগ জানান, ৩১ ডিসেম্বর চা পাতা কেনার শেষ সময় থাকলেও কিছু চাষি শ্রমিক সংকটে সময়মতো পাতা কাটতে পারেননি। শ্রমিক সংগ্রহ করে তারা বর্তমানে চা পাতা কাটছেন। এসব পাতা না কিনলে চাষিদের তা ফেলে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না এবং তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। সে বিবেচনায় চা পাতা কেনা হচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ চা বোর্ড, পঞ্চগড়ের উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আমির হোসেন জানান, অফিসিয়ালি সবুজ চা পাতা ক্রয় বন্ধ রয়েছে। তবে আনঅফিশিয়ালভাবে কিছু কারখানা পাতা ক্রয় করছে বলে তিনি স্বীকার করেন।