পর্যটন নগরী কক্সবাজারের হাট-বাজারগুলোতে মৌসুমী শীতের সবজিতে ভরপুর। কিন্তু এই ভরা মৌসুমেও চড়া শীতকালীন সবজির দাম। এ নিয়ে নাভিশ্বাস ক্রেতাদের। সরেজমিনে শহরের বড় বাজার, বাহারছড়া বাজার, কানাইয়া বাজার, উপজেলা বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, বেগুন, মিস্টি কুমড়া,বরবটি, ভেন্ডি, লাউ, মুলাসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজিতে সয়লাব হলেও ক্রেতাদের স্বস্তি ফেরেনি। নতুন মৌসুমের সবজি বাজারে এলেও দাম এখনও তুলনামূলক কমার কোনো লক্ষণ নেই বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। সরেজমিনে সকাল ও বিকালে শহর ও শহরের বাইরের কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিকেজি ফুলকপি ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ টাকা, শিম ৮০-১০০ টাকা কেজি, মূলা ৪০-৫০ টাকা কেজি, লাউ ৬০ টাকা পিস, কাঁচা মিষ্টি কুমড়া ৪০-৫০টাকা কেজি , আলু ৩০-৬০ টাকা কেজি, বরবটি ৬০-৮০টাকা কেজি,ভেন্ডি ৮০ টাকা, টমেটো ৮০-১০০ টাকা কেজি, শিম বিচি ২০০-২৪০ কেজি, পেঁপে ৩০-৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সারা বছর সবজি ৬০ থেকে ১২০টাকার মধ্যেই থাকে। কবে দাম কমে বা কবে দাম বাড়ে, সেটা বোঝা যায় না বলে মন্তব্য অনেক ক্রেতার। সেলিম উল্লাহ নামের একজন সংবাদকর্মী জানান, শীতকাল আসলে মৌসুমী সবজির দাম এমনি কম থাকার কথা। ১০০ টাকায় অন্তত আড়াই থেকে ৩ কেজি সবজি তো পাওয়ার কথা। কিন্তু সেখানে ২ কেজি সবজি কিনতেই লাগে অন্তত ১২০ টাকা। শীত মৌসুমে এটাকে কম দাম বলতে নারাজ ক্রেতারা। ঈদগাঁও বাজারের খুচরা বিক্রেতা আব্দুল্লাহ জানান, আমরা পটিয়া, দোহাজারি, চকরিয়া থেকে আনি। সেখানে নানান ধরণের সবজি পাওয়া যায়। একই সবজি মানভেদে দাম আলাদা। আমরা বাজার থেকে নিয়ে আসার খরচসহ হয় কেজিতে ৩-৫ টাকা লাভ করি। কিন্তু দামের বিষয়টা হচ্ছে পাইকারি বাজারে দাম কমেনি তাই আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। সামনে আরেকটু দাম কমার সম্ভাবনা আছে বলে তিনি এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। তবে পেঁয়াজের ঝাঁজ বাজাের বেড়েই চলেছে কেজিতে ১০০-১২০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। এছাড়া লাল শাক প্রতি আঁটি ৩০ টাকা, মুলাশাক ২০টাকা, কলমি শাক ১০টাকা, মিষ্টি কুমড়া শাক ৩০-৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৬০-৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে দেখা গেছে। তবে সাগর শান্ত থাকায় বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছে বাজার সয়লাব থাকায় কিছুটা হলেও স্বস্তি রয়েছে মাছের বাজারে।

