পঞ্চগড়ে অবৈধভাবে পরিচালিত ইটভাটার বৈধতা আদায়ের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন ভাটা মালিক ও শ্রমিক নেতারা। তবে এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান। সোমবার (২১ ডিসেম্বর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ভাটা মালিক ও শ্রমিকদের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে পরিবেশগত ছাড়পত্র ও লাইসেন্স সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতার কথা উল্লেখ করে ভাটাগুলোর কার্যক্রম চালু রাখার অনুমতি চাওয়া হয়। জেলা প্রশাসক স্মারকলিপি গ্রহণ করলেও অবৈধ ইটভাটার বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “আইনের বাইরে গিয়ে কোনো অবৈধ ইটভাটাকে বৈধ করার সুযোগ নেই। পরিবেশ আইন অনুযায়ী অবৈধ ভাটার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।” জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, পঞ্চগড় জেলায় পরিবেশগত ছাড়পত্র ও বৈধ লাইসেন্স ছাড়া পরিচালিত একাধিক ইটভাটার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে অভিযান চালানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম চলমান থাকবে। ইতোমধ্যে জেলার চারটি অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে পরিবেশবাদীরা জেলা প্রশাসনের এই অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, অবৈধ ইটভাটা কৃষিজমি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। কোনো ধরনের চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণই একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরিবেশ সংরক্ষণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। স্মারকলিপি প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন ভাটা মালিক সমিতির সভাপতি শাহীন ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রাজিউল ইসলাম, ভাটা মালিক আব্দুল মান্নান, গোলাম আজম গোলাপ এবং ট্রাক্টর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামসহ অন্যান্যরা।

