গাজীপুর-১ আসনে সাবেক মেয়র মজিবুর রহমানকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়ার পর পুরো এলাকা উত্তাপে ভরে উঠেছে। প্রতিদিন মশাল মিছিল, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজপথ। এই আন্দোলন শুধু পৌর এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই উপজেলার ইউনিয়নগুলো, যেমন কোনাবাড়ি ও কাশিমপুরেও তার ভোট ব্যাংক প্রায় শূন্য। ফলে স্থানীয় জনগণও সরাসরি আন্দোলনে যুক্ত হচ্ছে।
কালিয়াকৈর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব এম আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেছেন, “মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দীর্ঘদিন জমে থাকা ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মধ্যেও মনোনীত প্রার্থীর অনুসারীরা বাধা সৃষ্টি করছে। এতে নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। আমাদের দাবি, মনোনয়ন প্রক্রিয়া পুনঃতদন্ত করা হোক।”
নেতাকর্মীদের অভিযোগ, মেয়র থাকাকালীন সময়ে মজিবুর রহমান নিয়মিতভাবে নিজের ঘনিষ্ঠ ও ‘পকেটের লোকদের’ সুযোগ দিয়েছেন। সরকারি প্রকল্প ও টেন্ডার বারবার নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর হাতে চলে যেত, যার ফলে প্রকৃত যোগ্যরা বঞ্চিত হয়েছেন। স্থানীয়রা বলছেন, মেয়র থাকাকালীন সময়ে সরকারি অর্থ আত্মসাত, উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, টেন্ডার ও বরাদ্দের অপব্যবহার ছিল নিয়মিত ঘটনা।
স্থানীয় ভোটারদের অভিযোগও স্পষ্ট। কাশিমপুর এলাকার ভোটার আব্দুল কাদের বলেন, “পৌর এলাকায় হয়তো কিছু লোক আছে, কিন্তু ইউনিয়নে উনার কোনো মানুষের আস্থা নেই। মেয়র থাকার সময় নিজের লোক ছাড়া কাউকে সুযোগ দেননি। আবার আওয়ামী লীগ ও সাবেক মন্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে আমাদের এলাকার মানুষের আস্থা নেই। এমন লোককে মনোনয়ন দিলে আমরা চুপ থাকবো কেন?”
এদিকে, বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ইশরাক সিদ্দিকী ফোনে দেওয়া বক্তব্যে জানিয়েছেন, “মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। দলের পক্ষ থেকে আমাদের লিখিত কোনো নথি বা নির্দেশ দেওয়া হয়নি। দলের মহাসচিবও জানিয়েছেন, চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শীঘ্রই দেশে আসছেন। দলের চেয়ারপারসন, সাবেক মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আছেন। এই সময় হঠাৎ করে কিছু সংখ্যক প্রার্থীকে প্রকাশ করে উল্লাসে মেতে ওঠা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশে আসবেন এবং তিনি অবশ্যই তৃণমূল ভোটারদের দাবি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।”
মনোনয়ন বিতর্ককে কেন্দ্র করে তৃণমূল পর্যায়ের আন্দোলন ও জন দাবি এখনও থামেনি। স্থানীয় নেতা-কর্মীরা বলছেন, এটি কেবল দলীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা নয়; এটি এলাকার রাজনীতি ও জনগণের আস্থার প্রশ্ন। তারা দাবি করছেন, কেন্দ্রীয়ভাবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা যাচাই করে বিতর্কমুক্ত, জনসমর্থিত প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গাজীপুর-১ এ যে উত্তাপ দেখা যাচ্ছে, তা কেবল একটি মনোনয়ন ইস্যু নয়। এটি দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, রাজনৈতিক আঁতাত, ইউনিয়ন পর্যায়ে ভোট ব্যাংকের অভাব এবং নেতৃত্বের প্রতি আস্থাহীনতার বহিঃপ্রকাশ। দ্রুত সমাধান না হলে, এই উত্তাপ পুরো নির্বাচনী পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলবে।

