ঢাকাMonday , 15 December 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চাকা ঘোরানো খেলাটি ছিল শৈশবের অনন্য আনন্দ

Link Copied!

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিপ্লবের এই যুগে নীরবে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা। এক সময় যেসব খেলায় কেটে যেত শৈশব-কৈশোর, আজ সেসব খেলাই নতুন প্রজন্মের কাছে অচেনা নাম। শৈশবে যেসব খেলায় মেতে উঠেছিলেন আজকের প্রৌঢ় ও বৃদ্ধরা সেসব খেলার চর্চা না দেখতে দেখতে তারাও আজ ভুলে গেছেন বহু খেলার নাম। গাইবান্ধা জেলার হারিয়ে যাওয়া খেলাগুলোর মধ্যে চাক্কি ঘোরানো বা চাকা ঘোরানো খেলাটি ছিল শৈশবের এক অনন্য আনন্দ। সাইকেল বা রিকশার পরিত্যক্ত চাকা, পুরোনো লোহার রিং কিংবা বাঁশের চটি গোল করে বেঁধে বানানো হতো চাক্কি। সেই চাক্কি হাতে নিয়ে গ্রামের রাস্তায় দৌড় এই খেলায় মেতে থাকত ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা। এক সময় গ্রামের শিশু ও যুবকেরা পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিল। বিকেল নামলেই গ্রামের খোলা মাঠ, উঠান কিংবা মেঠো পথ হয়ে উঠত হাসি-চিৎকারে মুখর। দল বেঁধে খেলত কাবাডি, দাঁড়িয়াবান্ধা কিংবা গোল্লাছুট। এসব খেলায় যেমন মিলত নির্মল আনন্দ, তেমনি হতো শরীরচর্চা ও মানসিক বিকাশ। খেলাধুলার প্রতিটি মুহূর্তেই লুকিয়ে থাকত দুরন্তপনা আর প্রাণবন্ত শৈশব। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই দৃশ্য আজ বিলুপ্তির পথে। একসময় সবচেয়ে বেশি প্রচলিত কাবাডি, দাঁড়িয়াবান্ধা, গোল্লাছুট, বৌচি, কানামাছির মতো গ্রামীণ খেলাগুলোর আর তেমন দেখা মেলে না।
গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া খেলাধুলার তালিকা যেন দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ডু-ডু, কাবাডি, দাঁড়িয়াবান্ধা, মন্দুরুজ, গাদন, খো-খো, ডাংগুলি, গোল্লাছুট, গোশত তোলা, চিক্কা, এ্যাঙ্গো এ্যাঙ্গো, কুতকুত, ল্যাংচা, কিং কিং, বোমবাস্টিং, হাড়িভাঙা, বুদ্ধিমন্তর, চাঁ খেলা, বৌচি, কাঠিছোঁয়া, দড়ি লাফানো, দড়ি টানাটানি, রুমাল চুরি, চোখবুঝাবুঝি, ওপেন্টি বাইস্কোপ, নৌকাবাইচ, ঘোড়াদৌড়, আগডুম বাগডুম, ইচিং বিচিং, ঝুম ঝুমা ঝুম, কপাল টোকা, ছক্কা, লাঠিখেলা, বলীখেলা, এক্কাদোক্কা, চোর ডাকাত, মার্বেল, চাক্কি ঘোরানো বা চাকা ঘোরানোসহ অসংখ্য লোকজ খেলা। এই হারিয়ে যাওয়া খেলাগুলোর মধ্যে চাক্কি ঘোরানো বা চাকা ঘোরানো খেলাটি ছিল শৈশবের এক অনন্য আনন্দ। সাইকেল বা রিকশার পরিত্যক্ত চাকা, পুরোনো লোহার রিং কিংবা বাঁশের চটি গোল করে বেঁধে বানানো হতো চাক্কি। সেই চাক্কি হাতে নিয়ে গ্রামের রাস্তায় দৌড় এই খেলায় মেতে থাকত ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা। গাইবান্ধা জেলার এই চাক্কি ঘোরানো খেলাটি আজ বিলুপ্তির পথে। জেলার সাতটি উপজেলার মধ্যে সাদুল্ল্যাপুর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় একসময় এ খেলাটি ছিল খুবই জনপ্রিয়। ৭ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের হাতে দেখা যেত পুরোনো রিকশা বা বাইসাইকেলের টায়ার। গ্রামের রাস্তা, খোলা উঠান কিংবা পাড়া-মহল্লা ছিল তাদের খেলার মাঠ। বিশেষ করে সাদুল্ল্যাপুর উপজেলার বর ছত্রাগাছা ও ধাপের হাটের পালান পাড়া এবং সুন্দরগঞ্জ উপজেলার রামদেব গ্রামে এই খেলাটির দৃশ্য ছিল নিত্যদিনের। গত শুক্রবার জামাল হাটের চায়ের দোকানে রামদেব গ্রামের কুদ্দুসের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, চাকা খেলা তখন ছিল ভয়ানক নেশার মতো। কত যে বিকাল এ খেলায় কেটে গেছে তার হিসাব নাই। এখন সব কালের আবর্তে বিলীন। তার কথায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে এক হারানো শৈশবের দীর্ঘশ্বাস। স্মৃতির সেই দিনগুলোর কথা মনে হলে আজও ফিরে যেতে ইচ্ছে করে শৈশব-কৈশোরে। কিন্তু বাস্তবতা বড় নির্মম সেই মাঠ নেই, নেই সেই খেলাও।
গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এসব খেলাধুলা শুধু বিনোদন নয়, ছিল আমাদের সংস্কৃতি ও সামাজিক বন্ধনের অংশ। আজ প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের চাপে সেসব খেলাই হারিয়ে যাচ্ছে স্মৃতির অ্যালবামে। এখন সময় এসেছে হারিয়ে যাওয়া এই লোকজ খেলাগুলোকে নতুন প্রজন্মের কাছে ফিরিয়ে আনার। নইলে একদিন হয়তো গ্রামবাংলার শৈশব মানেই থাকবে শুধু মোবাইল আর স্ক্রিন খোলা মাঠ আর দুরন্ত শৈশব থাকবে কেবল গল্প।