মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা স্মরণে এবং পিরোজপুরের স্বাধীনতা অর্জনের ঐতিহাসিক দিনকে ধারণ করে পিরোজপুরে বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হয়। রবিবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ পিরোজপুর জেলা ইউনিট কমান্ড এর আয়োজনে এ র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
র্যালিটি পুরাতন কালেক্টরেট ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরাতন খেয়াঘাটে শহীদ বেদিতে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। র্যালিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহম্মেদ সিদ্দিকী, পৌর প্রশাসক ইশরাত জাহান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল হক চান, সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক মুনান, সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ পান্না লাল রায়, সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম খান, সদস্য সচিব এস এম সাইদুল ইসলাম কিসমতসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা। এছাড়াও অংশ করেন বিপুল সংখ্যক বীর মুক্তিযোদ্ধারা। র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা হাতে জাতীয় পতাকা, শহীদদের ছবি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় তৈরি বিভিন্ন ফেস্টুন বহন করেন। মুক্তিযুদ্ধের গান আর দেশাত্মবোধক স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো শহর। জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, “পিরোজপুরের হানাদারমুক্ত দিবস আমাদের গৌরবের দিন। শহিদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে সমুন্নত রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।” বক্তারা বলেন, ৮ ডিসেম্বর পিরোজপুরবাসীর জন্য এক গৌরবময় দিন। এ দিনে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসরদের পরাজিত করে পিরোজপুর পুরোপুরি মুক্ত হয়। স্বাধীনতার এ আনন্দ ও গৌরব নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে নিয়মিতভাবে এমন কর্মসূচি আয়োজনের গুরুত্বও তুলে ধরেন তারা।

