ঢাকাTuesday , 25 November 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গ্রামবাংলার হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়াদৌড় প্রতিযোগিতা

Link Copied!

রংপুরের পীরগাছায় আবারো জেগে উঠলো হারিয়ে যাওয়া গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়াদৌড় প্রতিযোগিতা সম্প্রতি ব্রাক্ষনীকুন্ডা বাজার যুব উন্নয়ন সমিতির উদ্যোগে বাজারপাশের বিস্তীর্ণ মাঠে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতা। মাঠজুড়ে তখন মানুষের ঢল দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসা কয়েক হাজার নারী-পুরুষ আর শিশুদের কোলাহলে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। প্রতিযোগিতার প্রধান অতিথি ছিলেন পীরগাছা বাজার দোকান মালিক ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এবং উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ আমিনুল ইসলাম রাঙা। নওগাঁ, দিনাজপুর, কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মোট পনেরোটি শক্তিশালী ঘোড়া অংশ নেয় প্রতিযোগিতায়। মাঠের চারপাশ ঘিরে থাকা দর্শকদের উত্তেজনা ছুঁয়ে যায় আকাশকে একেক দৌড়ে উল্লাস ধ্বনিতে কেঁপে ওঠে পুরো বাজার এলাকা। দর্শক আতিয়ার রহমান বললেন প্রতি বছর এখানে ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতা হয়। আমরা পরিবার নিয়ে ছুটে আসি। গ্রামবাংলার এই ঐতিহ্য চোখে দেখা এ যেন অন্যরকম আনন্দ। এবারের প্রতিযোগিতায় প্রথম হন কুড়িগ্রাম ভূরুঙ্গামারীর সুজন মিয়া। মুখে গর্বের হাসি নিয়ে তিনি বলেন আমার বাবা-দাদারাও ছিলেন সওয়ারি। ঘোড়ার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক রক্তের মতো। দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিযোগিতায় যাই এটাই আমার নেশা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক কমিটির সভাপতি আব্দুর রহিম সরকার। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খন্দকার মতিয়ার রহমান, অন্নদানগর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান, সদস্য সচিব আব্দুর রশিদ মাস্টারসহ অনেকে। আয়োজক কমিটির দাবি আমরা প্রতি বছরই ঘোড়া দৌড় আয়োজন করি। এবারও সেভাবেই আয়োজন করা হয়েছে। সবচেয়ে আনন্দের বিষয় সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি ছিল নারী-পুরুষ ও শিশুদের উপস্থিতি। একসময় গাইবান্ধা জেলায় ও ছিল ঘোড়া দৌড়ের রাজত্ব গাইবান্ধার সাতটি উপজেলা গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, সাদুল্ল্যাপুর, সাঘাটা, ফুলছড়ি, গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়ী এইসব এলাকায় একসময় ঘোড়া দৌড় ছিল উৎসবের নাম। বিশেষ করে গোবিন্দগঞ্জ ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা এবং নলডাঙ্গা এলাকায় আমন ধান কাটার পর খোলা জমিতে মাইকিং করে জানানো হতো প্রতিযোগিতার খবর। গ্রামবাসী দল বেঁধে মনের আনন্দে ছুটে যেত খেলামাঠে। শত শত ঘোড় সওয়ার প্রতিযোগিতায় অংশ নিত দৃশ্যটি যেন এক উৎসবের নগরী! প্রথম পুরস্কার হিসেবে থাকত ২০ ইঞ্চির টেলিভিশন, দ্বিতীয় পুরস্কার ছিল মোটা খাসি। বিভিন্ন জেলার ঘোড়ার দল, সওয়ার, নাচ-গান, ঢাক-ঢোল সব মিলিয়ে গ্রামবাংলা হয়ে উঠত রঙিন উৎসবের মাঠ। ৯০ দশকের সেই ধুমধামের দিন যেন ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেছে সময়ের অতল গহ্বরে। নৌকা বাইচ এখনো দেখা যায় কিন্তু ঘোড়া দৌড়? প্রায় হারিয়েই গেছে। বামনডাঙ্গা-নলডাঙ্গার মাঝামাঝি এলাকার এক প্রবীণ ঘোড়াশিল্পী ফকির আলমগীর (বয়স ৭৮), যাকে সবাই ঘোড়াবালা বলে চেনে, স্মৃতিতে ডুব দেন একসময় ঘোড়া ছিল আমাদের প্রাণ। বাজারে যেতাম ঘোড়ায় চড়ে। এক আলাদা গর্ব ছিল। এখন আর ঘোড়া দৌড় হয় না। ঘোড়া এখন মালবাহী গাড়িতে পরিণত হয়েছে। আগের লোকেরা যুদ্ধও করত ঘোড়ায় চড়ে সেই ঘোড়া আজ শুধু বোঝা টানে। অনেকেই ঘোড়া বিক্রি করে দিয়েছে। তার গলায় ঝরে পড়ে বেদনার সুর ঐতিহ্যটা আর কে ধরে রাখবে জানি না পীরগাছার মতো উদ্যোগ যদি আরও বাড়ে, যদি গ্রামবাংলায় আবার ঘোড়া দৌড় আয়োজন হয়, তাহলে হয়তো ভবিষ্যত প্রজন্মও দেখতে পাবে এই ইতিহাস এই মাটির গন্ধে মেখে থাকা খেলা। কারণ ঘোড়া দৌড় শুধু খেলা নয় এটি ছিল গ্রামবাংলার আবেগ, ঐতিহ্য আর সামাজিক উৎসবের নাম। মানুষ এখনো সেই আবেগ খুঁজে ফেরে। পীরগাছার, আকাশে তাই আবারও ভেসে উঠলো ঘোড়ার খুরের শব্দ প্রাণের গ্রামবাংলা যেন ফিরে পেল হারানো ছন্দ।