স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সদ্য প্রধান কার্যালয় যোগদানকৃত প্রকল্প পরিচালক মোঃ আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মন্ত্রী পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আত্মীয় আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে বরিশাল জেলায় দীর্ঘ আড়াই বছরের অধিক সময় নির্বাহী প্রকৌশলী দায়িত্ব পালন করেছেন। তার সুদৃষ্টি ও অনুমতি সাপেক্ষে বরিশাল জেলায় নির্বাহী প্রকৌশলী দায়িত্ব পেয়েছিলেন। কৃতজ্ঞতা স্বরূপ গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া আসনের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পলাতক সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী মন্ত্রী আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহর লোকজনদের ভাগবাটোয়ারা করে দিতেন। অন্যদিকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কোহিনুর এন্টারপ্রাইজ ও মাহফুজ খানের সাথে তার কাজের অলিখিত পার্টনারশিপ থাকার বিষয়টি স্থানীয় অনেক ঠিকাদার দাবি করেছেন। অভিযোগে আরো জানা যায়, মাহফুজ খানের চলমান একটি ব্রিজের কাজ থেকে কমিশন বাবদ এককালীন ২ কোটি টাকা নিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র দাবি করেছেন। যা এলজিইডির বরিশাল নির্বাহী প্রকৌশলী অধিদপ্তরের কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারীর সঠিক প্রাপ্যতা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এভাবে বরিশাল জেলায় আড়াই বছরে ১ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হলে, কমিশন বাবদ ২% হারে সর্বনিম্ন ২০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আছে। এ সুবাদে অল্প সময়ে অঢেল সম্পদ ও বিত্ত বৈভবের মালিক হয়েছেন। ৫ আগস্ট প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পূর্বে বরিশাল জেলার তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের ঠিকাদারী কাজ ভাগ বাটোয়ারা করে দিয়ে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় রেখেছেন। কিন্তু ৫ আগস্ট প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর তিনি নিজেকে বিএনপিপন্থী হিসেবে দাবি করেন এবং তা প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন। উক্ত প্রকল্পে এর আগেও কর্মরত ছিলেন প্রকৌশলী আতিকুল ইসলাম। তিনি বর্তমানে ব্যাপক ক্ষমতাধর বলে নিজকে জাহির করছেন। যে কারণে ভয়ে সবাই থাকেন তটস্থ। বিগত সময় আওয়ামী সুবিধাভোগী দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী আতিকুল ইসলাম বিএনপির কাউকে আমলেও নিতেন না। এমনকি বিএনপির কাউকে চিনতেনও না। বর্তমানে সাবেক ছাত্রদল নেতা পরিচয়ে দাবিয়ে বেড়াচ্ছেন এলজিইডিতে। এতে বিএনপির ভাবর্মূতি সঙ্কটে পড়েছে। অনেকেই কানাঘুষা করছেন তার এহেন কর্মকান্ড নিয়ে। এলজিইডি সূত্র আরও দাবি করে, সম্প্রতি মোটা অংকের লেনদেনের মাধ্যমে প্রধান কার্যালয় বৈদেশিক আর্থিক সহায়তায় প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্পের প্রায় ১০০ কোটি টাকার বাণিজ্য করার টার্গেট নিয়ে প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব নিয়েছেন। মধ্যবিত্ত পরিবারের থেকে উঠে আসা মোঃ আতিকুল ইসলাম তার স্ত্রীর সন্তানকে আমেরিকায় পাঠিয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে তার বন্ধু নরসিংদী জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী ফুলকাম বাদশার পরিবার-পরিজন দীর্ঘদিন থাইল্যান্ডে বসবাস করছেন। সূত্র জানায়, নরসিংদী জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী ফুলকাম বাদশার সার্বিক অর্থের যোগানদাতা উক্ত দপ্তরে কর্মরত বর্তমান ক্যাশিয়ার। উচ্চাভিলাসী ও রূঢ় আচরণ প্রদর্শনকারী আতিকুল ইসলাম থাইল্যান্ডে একই ব্যাচের বন্ধু প্রকৌশলী ফুলকাম বাদশার বাসায় যাতায়াতের সুবাদে পারিবারিক সখ্যতা ঘরে ওঠে। পরবর্তীতে পারিবারিক ঘনিষ্ঠতা সুবাদে ফুলকাম বাদশার স্ত্রীর সাথে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। অভিযোগে আরো জানা যায়, বিভিন্ন অজুহাতে প্রায়শই মোঃ আতিকুল ইসলাম একই ব্যাচের ঘনিষ্ঠ বন্ধু প্রকৌশলী ফুলকাম বাদশার স্ত্রীর সাথে একান্ত সময় কাটানোর জন্য থাইল্যান্ডে যাতায়াত করেন।
উপরোক্ত অভিযোগের বিষয় প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আতিকুল ইসলামের অফিসে কয়েকবার গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে নরসিংদী জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী ফুলকাম বাদশার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি।

