বাংলাদেশের একমাত্র সমতল ভূমির চা-বাগান পঞ্চগড়ে এবার দিগন্তজোড়া সবুজে লিখছে নতুন সুখবর। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় জেলার কয়েক হাজার হেক্টর জমির চা বাগানে কাঁচা পাতার উৎপাদন হয়েছে ব্যাপক। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ন্যায্য মূল্য যা দীর্ঘদিন পর হাজারো চা চাষীর মুখে হাসি ফুটিয়েছে। চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই চা প্রক্রিয়াকরণ কারখানাগুলো প্রতি কেজি কাঁচা চা পাতা ২৯ থেকে ৩৪ টাকা দরে কিনছে। অথচ গত মৌসুমে চাষীরা বাধ্য হয়েছিলেন মাত্র ৭ থেকে ১০ টাকা কেজি দরে চা পাতা বিক্রি করতে। চাষীদের অভিযোগ ছিল, কারখানা মালিকদের অনৈতিক সিন্ডিকেটের কারণে না শুধু কম দামে বিক্রি করতে হয়েছিল, বরং প্রতি ১০০ কেজি কাঁচা পাতার বিপরীতে মাটি হিসেবে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত পাতা দাম ছাড়াই নিয়ে যেত কারখানাগুলো। ফলে হতাশ অনেক চাষী বাগান পর্যন্ত উঠিয়ে ফেলতে বাধ্য হন। এবার বদলে গেছে চিত্র স্থানীয় চা চাষী আমিনার রহমান ও মোতাহার হোসেন জানান, এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় কাঁচা পাতার মান ও উৎপাদন দুটোই বেড়েছে। সেই সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক বাজার এবং সিন্ডিকেটমুক্ত পরিবেশ চাষীদের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করেছে। গত বছরের তুলনায় এবার প্রতি কেজির দাম প্রায় চারগুণ বেশি। চাষী মতিয়ার রহমান বলেন, “গতবার কম দামের সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত পাতা নেওয়ার যে অন্যায় নিয়ম ছিল, এবার তা নেই। দামও তিন চারগুণ বেশি। এতে আমরা প্রকৃত অর্থেই লাভবান হয়েছি।” এতে কর্মসংস্থান বেড়েছে, অনেক বেকার শ্রমজীবীও কাজ পেয়েছেন। কারখানা মালিকদের পাল্টা ব্যাখ্যা অভিযোগ অস্বীকার করে নর্থ বেঙ্গল টি ফ্যাক্টরির ম্যানেজার সোহাগ জানান, “গত মৌসুমে গুণগত মান খারাপ হওয়ায় অকশন মার্কেটে চায়ের দর কমে যায়। তাই কাঁচা পাতার দামও কম ছিল। এবার মান ভালো ফলে বাজারে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে এবং চাষীরা ভালো দাম পাচ্ছেন।” চায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা পঞ্চগড় আঞ্চলিক চা বোর্ডের উন্নয়ন কর্মকর্তা আরিফ খান বলেন, “গত মৌসুমে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও এ বছর বাগানগুলোতে কাঁচা পাতার উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি মৌসুমে ৩ হাজার ৯৪০ হেক্টর জমিতে চা চাষ হয়েছে। এখান থেকে ১ কোটি ৫২ লাখ কেজি উন্নতমানের চা উৎপাদন হবে বলে আশা করছি।

