সাভারে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও সিটি ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ, আগুন, হামলা, ভাঙচুর ও শিক্ষার্থী জিম্মির ঘটনায় একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় দুটির কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) সকালে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’জন কর্মকর্তা পৃথকভাবে সাভার মডেল থানায় এসব মামলা করেন বলে বিকেলে নিশ্চিত করেন সাভার মডেল থানার ওসি (অপারেশান) মো: হেলাল উদ্দিন। তিনি নিউ এ প্রতিবেদককে জানান, উভয় বিশ্ববিদ্যালয় সকালে পৃথকভাবে মামলা দুটি করেছে। আমরা তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। এর আগে গত রোববার (২৬ অক্টোবর) ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ব্যাচেলর প্যারাডাইস হোস্টেলের সামনে সিটি ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থী থুথু ফেললে তা ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক ছাত্রের গায়ে লাগে। এ নিয়ে উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে রাত ৯টার দিকে দেশীয় অস্ত্র ও ইট-পাটকেল নিয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির হোস্টেলে সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেন। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে জড়ো হন এবং উভয় ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ তা মিমাংস করেন। পরবর্তী সময়ে রাত ১২টার দিকে উত্তেজিত ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীরা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে সিটি ইউনিভার্সিটির গেটে গিয়ে গেট বন্ধ পেয়ে বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে ৬টি ছাত্র পরিবহনের বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ১৬টি যানবাহনে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয়। এছাড়া ড্যাফডিলের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা এ সময় ওই ইউনিভার্সিটির ভিসি অফিস, রেজিস্ট্রার অফিস, প্রো-ভিসি অফিস, অ্যাকাডেমিক ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। এদিকে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনায় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন।
এ ঘটনায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ১১ শিক্ষার্থীকে সিটি ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে আটকে রাখলে পরবর্তীতে মীমাংসার মাধ্যমে গত সোমবার ড্যাফোডিল কর্তৃপক্ষের কাছে সিটি কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের হস্তান্তর করেন। পরে মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি তাদের ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলন করে তাদের শিক্ষার্থীদের জিম্মি ও আহত করার অভিযোগ করেন সিটি ইউনিভার্সিটির বিরুদ্ধে। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মামলা- ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির করা মামলার এজাহারে অজ্ঞাতনামা ২৫০ জনকে আসামি করা হয়। এজাহারে বলা হয়, হামলার পর সিটি ইউনিভার্সিটির একটি গোষ্ঠী ড্যাফোডিলের ১১ জন ছাত্রকে জিম্মি করে সারারাত আটক রেখে অস্ত্রের মুখে অমানসিক নির্যাতন, মারধর ও মনস্তাত্ত্বিক ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক বক্তব্য আদায় করেন। মামলাটি করেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো: আফতাব উদ্দীন আহমেদ খান। সিটি ইউনিভার্সিটির মামলা- সিটি ইউনিভার্সিটি ফাহাদসহ অজ্ঞাতনামা এক হাজারের অধিক ড্যাফোডিলের ছাত্রকে আসামি করে মামলা করে। প্রতিষ্ঠানটির রেজিস্ট্রার মীর আকতার হোসেন সাভার মডেল থানায় এ মামলা করেন। সিটি ইউনিভার্সিটির মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সাভার মডেল থানার (এসআই) মো: শহিদুজ্জামান জানান, তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

