শীতের শিশির কণার আগাম বার্তা প্রতিদিন সকালে উঁকি দিচ্ছে গ্রাম-গঞ্জের কোহলমুক্ত সবুজে ঘেরা প্রকৃতির কাছে। এরই মধ্যে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ বাজারের মাঝখানে বিশাল আকৃতির রেইনট্রি গাছে অচেনা পাখি ঠিকানা করে নিয়েছে আপন মহিমায়। বাজারে ঢুকলে কানে ভেসে আসছে সেই অচেনা পাখির কিচিরমিচির শব্দ। আর তখনেই সকল নজর গাছের আগালে। তিনটি গাছের মগডালে হাজারও অচেনা পাখি বাসা বেঁধেছে নিজের মত করে। গলায় কালো ডোরা সাদা রঙের এসব পাখি গাছের এপাশ ওপাশ উড়ছে অবিরত। এ যেন নৈসর্গিক দৃশ্যে পরিনত হয়েছে। যারাই বাজার করতে আসছেন তারাই তাকাচ্ছেন অচেনা পাখি দিকে। সেই সাথে উসুক মানুষের ভিড় চোখে পড়ারমত। বাজারের ওই গাছের নিচে কাঁচামাল ব্যবসায়ী মোঃ হামিদুল ইসলাম বলেন, আজ থেকে প্রায় দেড় মাস আগে একঝাক অচেনা পাখি এসে আশ্রয় নেয় গাছটিতে। এরপর আস্তে আস্তে আশপাশের আরও তিনটি গাছে হাজার পাখি আশ্রয় নিয়ে বাসা বেধেঁছে। প্রতিটি বাসায় অসংখ্য বাচ্ছা রয়েছে। পাখির কিচিরমিচির শব্দ শুনতে ব্যবসায়ীরা এখন অভ্যস্ত হয়ে পরেছে। বাজার করতে আসা মানুষজন পাখির কিচিরমিচির শব্দ শুনে এক নজর তাকাচ্ছেন গাছের মগডালে। সারাদিন এদিক ওদিক ছুঁেট গিয়ে খাবার সংগ্রহ করে আবার ফিরে আসছে গাছের ডালের খড়কুঁটার বাসায়। বাজারের সাথে খালের মধ্যে এবং একটু দুর তিস্তা নদীতে গিয়ে খাদ্য সংগ্রহ করছে ওরা। এখন পর্যন্ত পাখি প্রেমী এবং শিকারীরা হানা দিতে পারেনি। বাজারের ব্যবসায়ীরা এনিয়ে অত্যন্ত সর্তকা অবস্থানে রয়েছে। পাখি দেখতে প্রতিদিন হাজারও লোকজন আসেন। কেউ ছবি তুলেন, কেউ পাখির কিচিরমিচির শব্দ রেকর্ড করেন। অচেনা এই পাখির আগমন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের আকাশে রুপবৈচিত্র যোগ করেছে। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে পাখির কলকাকলি। এ যেন হারিয়ে যাওয়া প্রকৃতির সেই রুপ। পাখিগুলো যখন দলবেঁধে ডানা মেলে আকাশে উড়ে, তখন মনে হয় এযেন শিল্পির আঁকা ছবি এবং ক্যালেন্ডারের পাতা। উপজেলা বনবিভাগের কর্মকর্তা মোঃ মেহেদী হাসান বলেন, উপজেলায় কোথাও বিশাল আকৃতির গাছ-ঘাছলা নেই বললে চলে। কিছু এলাকায় হাতেগোনা কয়েকটি বিশাল আকৃতির গাছ রয়েছে। সাধারনত শীত মৌসুমে এসব পাখি এসে কিছুদিন বসবাস করে চলে যায়। তবে বনবিভাগ অতিথি পাখি শিকারের অত্যন্ত সর্তক রয়েছে।

