জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় ফৌজদারি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে আত্মগোপনে থাকা এক ইউপি সদস্য এখনো স্বপদে বহাল থেকে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ সেবা প্রত্যাশী মানুষজন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের অধিকাংশ নেতা-কর্মী আত্মগোপনে রয়েছেন। কালাই উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই এলাকায় ৫ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানই আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা। তারা ৫ আগস্টের ঘটনার পর থেকে পলাতক৷ কেউ কেও জামিনে রয়েছে। সূত্র বলছে, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, বৈষম্য, ছাত্র-জনতার ওপর হামলা এবং হত্যা চেষ্টাসহ একাধিক মামলায় অভিযুক্ত রয়েছেন এসব জনপ্রতিনিধি। ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন৷ মাত্রাই ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল হান্নান চেক,ডিজাইনার মামলায় এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, ফৌজদারি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে আত্মগোপনে থাকা ইউপি সদস্য আব্দুল হান্নান নিয়মিত ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত। তিনি গোপনে এসে কাগজপত্রে স্বাক্ষর করে চলে যান। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী, কোনো ইউপি সদস্য ফৌজদারি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হলে এবং যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া পরপর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকলে তার পদ শূন্য ঘোষিত হওয়ার কথা। কিন্তু মাত্রাই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল হান্নান এখনো স্বপদে বহাল আছেন, যা আইন লঙ্ঘনের শামিল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আত্মগোপনে থাকা এসব জনপ্রতিনিধি এখন গোপনে মাঝে মধ্যে এসে কাগজপত্রে স্বাক্ষর করছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সহযোগিতায় তারা কার্যত পলাতক থেকেও দায়িত্ব পালন করছেন বলে দাবি এলাকাবাসীর। সেবা প্রত্যাশী একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়েও আব্দুল হান্নান গোপনে এসে অফিসে কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেন। এতে আমরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছি না। স্থানীয় নেতাদের ম্যানেজ করেই তিনি বহাল তবিয়তে আছেন। মাত্রাই ইউনিয়ন ইউপি সদস্য আব্দুল হান্নানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়ায় বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি৷ স্থানীয় সাইফুল ইসলামসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন,কোনো ইউপি সদস্য নিয়মিত অফিস করেন না। ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েই চলছে। তারা গোপনে থেকেও লুটপাট অব্যাহত রেখেছেন। অনুপস্থিত থেকেও টিআর ও জিআর প্রকল্পের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা আক্তার জাহান বলেন এ ঘটনাই আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি আইন অনুযায়ী তদন্তকার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

