দেশের বেকার যুবক-যুবতীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ‘ভ্রাম্যমাণ কম্পিউটার প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচিটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ হলেও, স্থানীয় যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার অসহযোগিতা এবং প্রচার প্রচারণার অভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত ‘টেকনোলজি এমপাওয়ারমেন্ট সেন্টার অন হুইলস ফর আন্ডারপ্রিভিলেজড রুরাল ইয়ং পিপল অব বাংলাদেশ (টেকাব)’ প্রকল্পের আওতায় একটি অত্যাধুনিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ভ্যান ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় আসে। কিন্তু, অত্যন্ত সীমিত প্রচারণার কারণে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা সময়মতো এই প্রশিক্ষণে ভর্তির বিষয়ে কিছুই জানতে পারেননি। প্রচারণার অভাবে আবেদন করা সম্ভব হয়নি কারণ পর্যাপ্ত প্রচার না থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা আবেদন করার সুযোগ বা পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারেনি। সরেজমিনে দেখা যায়, যে সকল যুবক-যুবতী ডিজিটাল বাংলাদেশের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করতে আগ্রহী, তাদের অনেকেই এই প্রশিক্ষণ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন। স্থানীয় অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী মো: হিমেল মিয়া জানান, আমি যুব উন্নয়নের অন্য প্রশিক্ষণ গ্রহন করেছি। কিন্তু এই তথ্যটি জানতে না পারায় আবেদন করতে পারিনি। হয়তো নিজস্ব লোক নেওয়ার জন্য এই পন্থা অবলম্বন করেছে। অভিভাবকদের অভিযোগের তীর সরাসরি উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার দিকে। তাদের মতে, কর্মকর্তার ‘প্রচার বিমুখ’ মনোভাবের কারণেই সরকারি এই সুযোগটি সাধারণের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক বলেন, “প্রশিক্ষণের খবর প্রচারের দায়িত্ব যার, তিনি যদি নীরব থাকেন, তাহলে গ্রামের সাধারণ ছেলেমেয়েরা জানবে কীভাবে? যাদের দরকার, তারাই আবেদনই করতে পারল না।” এ বিষয়ে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নন্দন কুমার দেবনাথ-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ওয়েবসাইটে আবেদনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমান বলেন, প্রচারের বিষয়টি যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

