শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান উনি বিদ্রোহ ঘোষণা করে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট থেকে বের হচ্ছিলেন উনার সাথে আরো কিছু বাঙালি সেনা অফিসার ছিল তারা তখন জিয়াউর রহমানকে বলেছিল ❝স্যার আপনি তো বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে, আপনার স্ত্রী সন্তান তো এই ব্যারাকের মধ্যেই আছে। আমরা ওদেরকে নিয়ে আসি স্যার❞। জিয়াউর রহমান বলেছিলেন আপনার স্ত্রী সন্তান কোথায়? তখন তারা বলেছিল আপনার স্ত্রী সন্তানের উপরে আছে স্যার। তিনি বলেছিলেন সবাইকে উদ্ধার করে আনতে পারবেন? তারা বলেছিল সবাইকে তো উদ্ধার করা অসম্ভব স্যার। তখন জিয়াউর রহমান বলেছিলেন আপনাদের স্ত্রী সন্তানকে যদি ব্যারাক থেকে না আনতে পারেন, আমার স্ত্রী সন্তানদেরকেও আনতে হবে না। ওদেরকে মহান রাব্বুল আলামিনের উপর ছেড়ে দিয়েছি। উনি ওদেরকে হেফাজত করবেন। খালেদা জিয়াকে কিন্তু আল্লাহ হেফাজত করেছিল। আমি এই কারণেই জিয়াউর রহমান কে ভালোবেসেছিলাম। আরেকটি কারণে যখন কোন দেশে যুদ্ধ শুরু হয় তখন সেই দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করে থাকেন সেই দেশের রাজনীতিবিদরা। কিন্তু তখন দেশের বড় বড় রাজনীতিবিদরা বাসা বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলেন অনেকে ইন্ডিয়া পালিয়ে গিয়েছিলেন কেউ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে আসে নাই। আওয়ামী লীগের তৎকালীন এক নেতা শেখ মুজিবুর রহমান সাহেবকে বলেছিলেন আপনি স্বাধীনতার ঘোষণাটা দেন, পাকহানাদার বাহিনী বাংলাদেশের মানুষের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে, মানুষ নেতৃত্ব হীনতায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে। আপনি শেখ মুজিবুর রহমান সাহেব বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা আপনি ঘোষনাটা দেন। তখন শেখ মুজিবুর রহমান সাহেব বলেছিলেন না এটা সম্ভব নয়। কারণ আমি যদি এখন স্বাধীনতার ঘোষণা দেই তাহলে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা খাব। রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার সাজা হচ্ছে ফাঁসি। আমি ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতে পারবো না। তখন তাজউদ্দীন সাহেব বলেছিলেন, দঠিক আছে নেতা। আপনি যখন ঘোষণা দিবেন না আপনি আন্ডারগ্রাউন্ড হয়ে যান, আপনি বাসায় থাকবেন না। আপনি বাসায় থাকলে পাকহানাদার বাহিনী আপনাকে গ্রেফতার করবে। আপনি একটু পালিয়ে থেকে আন্ডারগ্রাউন্ড হয়ে থেকে নেতৃত্ব দেন। কিন্তু সেদিন তিনি স্বেচ্ছায় পাক হানাদার বাহিনীর কাছে তার বাসা থেকে গ্রেফতার হয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান দেখলেন, বাংলাদেশের কোন রাজনীতিবিদ স্বাধীনতার ঘোষণা দিচ্ছে না। তখন জিয়াউর রহমান আবারো জীবনে ঝুঁকি নিয়ে চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেদিনই জিয়াউর রহমান কে ভালোবেসেছিলাম। কখন কোন দল ক্ষমতায় থাকবে এটা কিন্তু বলা যায় না। এবং ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। কোন দল সারা জীবন রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকে না। যেটা আমি দেখলাম কয়েকদিন আগে ১৭ বছর আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনা ক্ষমতার মসনদে ছিলেন কিন্তু ক্ষমতার মসনদ থেকে চলে যেতে হয়েছে এটাই বাস্তবতা। হয়তো আগামী দিনেও বিএনপি ক্ষমতায় আসবে কিন্তু ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। বিএনপি থেকেও হয়তো আরেক দল ক্ষমতায় আসবে, এটাই গণতন্ত্র ধারা। শনিবার দুপুরে গোপালগঞ্জ মহিলা দলের কোটালীপাড়া উপজেলা ও পৌর দলের আয়োজন কোটালীপাড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমি হলরুমে সাবিনা আক্তারের সভাপতিত্বে কর্মি সমবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী। প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ মহিলা দলের সভানেত্রী রওশন আরা রন্তা। এ সময় বিএনপিসহ সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মিরা উপস্থিত ছিলেন।

